বিচার দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রধান শিক্ষকের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষকদের ইউএনও অফিস ঘেরাও

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন বড়াইগ্রামের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৭টি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক প্রধান শিক্ষক ওয়াসেক আলী সোনারের সভাপতিত্বে মাহবুবুর রহমান, গৌরপদ ম-ল, শাহিনুর রহমান, বেগম নাজমা জাকির, সেলিম মৃধা, ইস্কান্দর মির্জা, আইয়ুব হোসেন, নাজমা বেগম, সরওয়ার হোসেন, বজলুল হক মোল্লা, ফাদার ওয়াল্টার রোজারিও, সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বক্তব্য দেন। বক্তারা শিক্ষক হামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মেম্বারসহ এজাহারভুক্ত ৯ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

এ সময় বড়াইগ্রামের ইউএনও ইশরাত ফারজানা ও ওসি মো. শাহরিয়ার খাঁন সমাবেশে এসে শিক্ষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে অবিলম্বে দোষীদের আটকের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন। পরে শিক্ষক নেতারা দোষীদের বিচারের দাবিতে ইউএনওর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে ওসি শাহরিয়ার খান বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ আন্তরিক পুলিশ। তাদের গ্রেফতারের জন্য সর্বক্ষণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মেম্বার ও তার লোকজন বিদ্যালয়ে আসার পথে পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান। সে সময় তারা পিটিয়ে তার বাঁ হাত ও ডান পা ভেঙে দেন। মিজানুর রহমান বর্তমানে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় শিক্ষক মিজানের ভাতিজা মিলন হোসেন বাদী হয়ে বাচ্চু মেম্বারকে এক নম্বর আসামি করে ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ নম্বর আসামি রাশিদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা পলাতক।

"