ঝিনাইদহের দুই খবর

দাফনের ৬৮ দিন পর ফিরলেন ‘নিহত’ হুমায়ন

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ধানক্ষেতে উদ্ধার হওয়া লাশ দাফন করা হয়। রুহের মাগফেরাত কামনা করে বাড়িতে আয়োজন করা হয় মিলাদ ও কুলখানির। এরপর ৬৮ দিন কেটে গেছে। বাড়িতে তখনো মাতম। কিন্তু এত দিন পর হঠাৎ ফিরে এসেছেন সেই ‘মৃত ব্যক্তি’। নাম তার হুমায়ন কবীর। তিনি মাগুরার ইছাখাদা গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ‘নিহত’ হুমায়ন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের অফিসে হাজির হন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর বিশ্বাসপাড়া মসজিদের পাশ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে লাশটি মাগুরার ইছাখাদা গ্রামের হুমায়ন কবীরের বলে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। লাশ দাফনের পর বাড়িতে কাঙালি ভোজ ও তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ দেওয়া হয়।

ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার অফিসে হুমায়ন কবীর সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে রাগারাগি করে একদিন বাড়ি থেকে উধাও হন হুমায়ন কবীর। বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকার পর যশোরের মনিরামপুর শহরে দর্জির কাজ করতেন। এর মধ্যে একবার তিনি ভারতেও যান। কয়েকদিন আগে তিনি তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন, তার লাশ পাওয়ার পর দাফন করা হয়েছে। এ খবর শুনে বিচলিত হয়ে যান হুমায়ন। সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে পুলিশের কাছে ধরা দেবেন। সে মোতাবেক গতকাল সন্ধ্যার দিকে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ অফিসে উপস্থিত হয়ে নিজের অন্তর্ধানের কথা পুলিশকে জানান। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হুমায়ন কবীরকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, শৈলকুপায় পাওয়া লাশটি হুমায়ন কবীরের নয়। ‘নিহত’ সেই হুমায়ন গতকাল নিজেই ফিরে এসেছেন।

উল্লেখ্য, হুমায়ন কবীরের বিরুদ্ধে মাগুরা থানায় চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি এই দুই মামলা থেকে জামিনে ছাড়া পান। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর শৈলকুপার হাটফাজিলপুর এলাকার ধানক্ষেত থেকে পুলিশ একটি লাশ উদ্ধার করে। একদিন পর লাশটি হুমায়নের বলে তার স্বজনরা শনাক্ত করে দাফন করেন।

এদিকে হুমায়ন ফিরে আসার পর শৈলকুপার হাটফাজিলপুর এলাকার ধানক্ষেতে পাওয়া লাশের পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে।

"