আড়াইহাজারের ১০২ প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক নেই ৩৭টিতে সহ-প্রধান শিক্ষক শূন্য ৪৮

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। দীর্ঘদিন উপজেলার ১০২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৮টিতে নেই সহকারী প্রধান শিক্ষক।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম চারজন শিক্ষক থাকার বিধান থাকলেও ওই সব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে রয়েছে দু-তিনজন করে। এ ছাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত ১০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা ঠিকমতো উপস্থিত হচ্ছেন না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় রয়েছে ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে ৩৭টি বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪৮টি। কোথাও কোথাও রয়েছে সহকারী শিক্ষকের তীব্র সংকট। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

এ ছাড়া কর্মরত শিক্ষকেরা বাৎসরিক নিয়মিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং পিটিআই ট্রেনিংসহ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে থাকছেন। অনেক প্রধান শিক্ষককে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে দাপ্তরিক কাজে। এতে করে অনেক বিদ্যালয়ে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে।

উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিলেও যোগাযোগের সু-ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা সঠিক সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছেন না। সঠিক পাঠদানের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অকালে ঝরে পড়ছে। প্রধান শিক্ষক বিহীন এসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকেরাও আসেন নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা পর।

স্থানীয়রা এবং অভিভাবকরা জানান, অনেক শিক্ষকই এখান থেকে বদলির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন। যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকার পরও তারা এখানে স্থায়ী হচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, ৫০০ কিংবা তার চেয়েও বেশি শিক্ষার্থীকে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।

উপজেলার রামচন্দ্রদী গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দয়াকান্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীনিবাসদী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বল্লবদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী আছে কিন্তু ক্লাসে কোনো শিক্ষক নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ে স্কুলে ভিজিট করে আসার পর শিক্ষকরা কী করে তা আমাদের জানা নেই। অভিভাবকরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

"