বরগুনায় ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বরগুনা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

বেসরকারি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালের সাধারণ রোগীরা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কিলোমিটারে ১০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা থাকলেও তা অমান্য করে রোগীদের জিম্মি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমনকি রোগীদের জোর করে বাধ্য করা হচ্ছে ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস দিয়ে তৈরি করা অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে।

এই সিন্ডিকেটের কবল থেকে পরিত্রাণ চান ভুক্তভোগীরা। তবে বরগুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কম থাকার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। অপরদিকে সিন্ডিকেট ভেঙে নিরাপদে যাতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, রোগী বহনের জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা নির্ধারণ করার বিধান থাকলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সগুলো তার তোয়াক্কা করছে না। বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বরিশাল বিভাগীয় শহরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার । সেই হিসাবে ফিরতি ভাড়াসহ দুই হাজার টাকা ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বিল করছে ২৭০০ টাকা। অপরদিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সগুলো আদায় করছে ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত । জেলা শহরের মধ্যেও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ টাকা। বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বালিয়াতলী রাখাইন পল্লি মাত্র ২৫ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়ার কথা ৫০০ টাকা। কিন্তু সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা। এতে করে গরীব ও অসহায় রোগীরা উন্নত চিকিৎসা গ্রহণে বিপাকে পড়ছেন। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৩টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার আছে মাত্র দুজন। অপরদিকে মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ১৪টি, যার মধ্যে মুমূর্ষু রোগী বহনের অযোগ্য ১১টি অ্যাম্বুলেন্স। অকেজো ও ভাঙা সিট, নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ফ্যান, এমনকি নেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বমি করার জন্য কোনো পাত্র। শুধু ব্যবসা করার জন্য কোনো রকম ফিটনেসবিহীন পরিত্যক্ত মাইক্রোবাস দিয়ে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম কমলেও এই সিন্ডিকেট ভাড়া নির্ধারিত করে সাধারণ রোগীদেরকে জিম্মি করে উচ্চ মূল্যে রোগী পরিবহন করছে। বরগুনা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়ত কয়েকশত রোগী দৈনিক চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে। বরিশাল মেডিকেলে রোগী পরিবহনে ২ হাজার টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় সম্ভব হতো। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা সিন্ডিকেট বানিয়ে হঠাৎ করেই মূল্য বাড়িয়ে ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা করে।

এ ব্যাপারে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স তিনটি যার মধ্যে ড্রাইভার রয়েছে দুজন। এত রোগী বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নাই।’

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব। কোনো রকম সিন্ডিকেট থাকলে তা ভাঙা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

"