টাকার কাছে হেরে গেলেন আলাউদ্দিন

কসবা মহিলা কলেজে টাকার বিনিময়ে দ্বিতীয় হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগদানের অভিযোগ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা মহিলা কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে প্রথম স্থান পাওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিয়ে টাকার বিনিময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগবঞ্চিত মো. আলাউদ্দিন গতকাল রোববার সকালে কসবা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

ওই প্রার্থী নিয়োগ না পাওয়ায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ নভেম্বর কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করছেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

ব্রা?হ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের গুরুহিত এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে মো. আলাউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৫ নভেম্বর কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ পরী?ক্ষায় অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিষয়টি তিনি কলেজের অধ্যক্ষ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।

আলা উদ্দিন বলেন, এক সপ্তাহ চলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ মো. তসলিম মিয়ার কাছে মুঠোফোনে কখন ফলাফল জানানো হবে জানতে চাইলে তিনি তার সাথে অসদাচরণ করেন। তিনি (অধ্যক্ষ) বলেন, প্রথম স্থান অর্জন করা হলেও আলাউদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

আলাউদ্দিন আরো বলেন, অধ্যক্ষ মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ব্যাক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি এ নিয়োগ বাতিল করে ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী হিসাবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হাবিব আহসান উল্লাহ বলেন; নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান করেছেন মো. আলা উদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ৩৬ নম্বর। দ্বিতীয় হয়েছে তাইফুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৩৫.৫০ নম্বর। নিয়োগ দেয়ার দায়িত্ব কলেজ পরিচালনা পর্ষদের।

কসবা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. তসলিম মিয়া বলেন; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণ করা হলেও ভগ্নাংশ নাম্বার হওয়ায় দ্বিতীয় প্রার্থীকে আধা নাম্বার দিয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ দুজনকেই যুগ্ম ভাবে প্রথম স্থান নির্ধারণ করায় তাইফুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তিনি বলেন এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। টাকার বিনিময়ে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা ইসলাম বলেন; এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

"