২০ দেশে যায় সাঁথিয়ার শুঁটকি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা
ADVERTISEMENT

পাবনার সাঁথিয়ার শুঁটকি মাছ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ২০টি দেশে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। শুঁটকি মাছ রপ্তানি করে অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক অর্থ। এছাড়া অনেকেই এ থেকে করছেন জীবিকা নির্বাহ।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল ও নদীর পানি কমতে শুরু করায় উপজেলার ঘুঘুদহের বিল, সোনাই বিল, বড় বিল, ছোট বিল, মুক্তাহারের বিল এলাকায় চলছে মাছ শুঁটকি করার ধুম। এছাড়াও চাটমোহরের চলনবিল ও সুজানগরের গাজনার বিল থেকে আমদানি করা হয় মাছ। বিল এলাকার গ্রামের মধ্যে ঢুকলেই চোখে পড়ে শুঁটকির চাতাল। এলাকার বিভিন্ন সড়কে ও পতিত জমিতে দেখা যায় শুঁটকির চাতাল। এসব শুটকির মধ্যে রয়েছে পুঁটি মাছ, বাইম মাছ, চাঁদা মাছ ও টাকি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ।

খোঁজ নিয়ে জান যায়, চলতি মৌসুমে এসব চাতালে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ১২০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা সরাসরি চাতাল থেকে পছন্দের শুঁটকি মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

শুঁটকি মাছের মান ভেদে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডে বাছাই করা হয়। ‘এ’ গ্রেডের (ভালো মানের) শুঁটকি মাছ মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ প্রায় ২০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সাধারণত এসব দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালীদের মাঝে রয়েছে মিঠা পানির শুঁটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা।

সাঁথিয়ার সাতানির চর, আরাজি গোপিনাথপুর, হুইখালী, কলাগাছি ও রঘুনাথপুরসহ প্রত্যন্ত বিল এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার শুঁটকি তৈরীর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

শুঁটকি তৈরীর কাজে নিয়োজিত নাজমা, আবেদা, জুলি, ফাতেমা, হাবলুসহ বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ শ্রমিক জানান, তিন কেজি তাজা মাছ শুকিয়ে এক কেজি শুঁটকি তৈরি হয়। শ্রেণিভেদে শুঁটকির বাজারমূল্য ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কেজি। চলতি মৌসুমে বিল এলাকা থেকে সংগ্রহকৃত মাছ থেকে ১২০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে শুঁটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।

আরাজি গোপিনাথপুর ও সাতানির চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী হান্নান, রইজ ও মনজু জানান, ‘আমার চাতাল থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় চার মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ উৎপন্ন করে আড়তে পাঠাই। এখানকার পুঁটি শুঁটকির ভারতে সবচেয়ে বেশি কদর রয়েছে। আর অন্যান্য মাছ এখানে লোকালে চলে। তবে সবচেয়ে বেশি চলে চিটাগাং ব্যবসায়ীদের নিকট। তারা ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করেন।’

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুঁটকি মাছের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনা পাঠিয়েছি মৎস্য মন্ত্রণালয়ে।’ তিনি আরো বলেন, শুঁটকি মাছের তদারকি এবং সরকারি প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও নজরদারির ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

"