এক ইউএনওর বিরুদ্ধে এত্ত অভিযোগ!

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অতুল ম-লের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মো. সাখাওয়াত হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তার পরিপ্রেক্ষিতে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুর রশীদ এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। আগামী ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ শুনানির জন্য ইতিমধ্যে সাক্ষীদের তলব করা হয়েছে। অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার নোটিশ জারি হওয়ার পর থেকে ইউএনও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে মুক্তিযোদ্ধা সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ইউএনও মোহাম্মদ অতুল ম-ল প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং দুপুর ১টায় অফিসে আসেন। এ সময় তার কাছে সেবা প্রার্থী বয়বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে সকল মানুষ বারান্দায় ঘুরে ঘুরে হয়রানির শিকার হন।

শুধু তা-ই নয়, উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেনের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পরিত্যাক্ত ভাসমান অবস্থায় একটি ইলিশ মাছ ধরা জাল পেয়ে শরণখোলায় নিয়ে আসে। বিষয়টি স্থানীয় মৎস্য আড়তদার সমিতিকে জানিয়ে জালগুলো ইউএনওর জিম্মায় রাখেন। ইউএও অতুল ম-ল ওই জাল আটক দেখিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে জমি ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা ইউএনওকে দিতে বাধ্য হন মৎস্য ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। কিন্তু ইউএনও ওই ব্যবসায়ীকে মাত্র এক হাজার টাকার রসিদ প্রদান করেন।

উপজেলার রায়েন্দা বাজারের চাল ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম টিআরের চাল কিনে মজুদ করলে ইউএনও তা আটক করে তাকে জেল-জরিমানা করেন। কিন্তু ওই রাতেই তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে শহিদুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারেজ, হাবিবুর রহমান হাওলাদার, হুমায়ুন কবির, সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে ইউএনও ৭২ ব্যক্তিকে অমুক্তিযোদ্ধা হিসাবে চিহ্নিত করেন। পরে তিনি ৫৮ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেন। কিন্তু ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ঘুষ না দেওয়ায় ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তাদের ভাতা বন্ধ করে দেন ইউএনও অতুল ম-ল। অথচ সরকারি গেজেটে ওই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রয়েছে। পরে হাইকোর্টের এক মামলার রায়ের ভিত্তিতে তারা ভাতা উত্তোলন করেন।

উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আনসার উদ্দিন নামের এক শিক্ষক ৬৫ বছর ধরে একটি জমি ভোগদখল করে এলেও ইউএনও ওই জমি স্থানীয় এক ছাত্রনেতাকে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে বেআইনিভাবে ডিসিআর প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রনেতা শিক্ষকের ধানক্ষেত দখল করে প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেন।

অপরদিকে স্থানীয় ঠিকাদার ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ছয় লাখ টাকার এডিপির একটি সলিং রাস্তা নির্মাণকাজের বিল আটকে ইউএনও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসের বিশাল আকৃতির লাখ লাখ টাকা মূল্যের একাধিক মেহগিনি ও শিরিষ গাছ কেটে ট্রাক যোগে তার ঢাকাস্থ ফ্ল্যাট বাড়িতে নিয়ে যান। অন্যদিকে, ভিপি সম্পতি ডিসিআর দেয়ার নাম করে উপজেলার তাফালবাড়ি বাজারের শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে সার্ভেয়ার ফারুকের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার নামে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন বলে মুক্তিযোদ্ধা সাখাওয়াত হোসেন তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সম্প্রতি ওই ইউএনওকে অন্যত্র বদলি করা হলেও ঊর্ধ্বতন মহলে তদবির করে তা তিনি স্থগিত করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও মোহাম্মদ অতুল ম-ল মুঠোফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, সাখাওয়াত হোসেন একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। ভুয়াদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাখাওয়াত হোসেন বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

"