অকেজো হয়ে পড়েছে দুই সেতু

জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির ফসল ক্ষতি

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রামগোপালপুর-গৌরীপুর সড়কের সেতুর নিচে বলেশ্বর নদীর মুখে মাটি ভরাট করে বাঁধ দেয়ায় কোনো কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার সেতু। মৎস চাষের নামে নেয়া এই বাঁধের ফলে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বর্ষায় পানির নিচে তলিয়ে যায় শত শত একর জমির ফসল। এর ফলে একই নদীতে নির্মিত অপর একটি সেতুও অকেজো হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের অবস্থার কোনো বদল হয়নি। নির্মাণের পর থেকে গত ১৬ বছর বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। ব্যক্তি সম্পত্তির অযুহাতে সম্প্রতি সেতুর বিপরীত অংশেও মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গত ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণের কিছুদিন পরেই বিসমিল্লাহ কো-অপারেটিভ নামে একটি সংগঠন বলেশ্বর নদীতে মৎস্য চাষের জন্য নামমাত্র টাকায় লিজ নেন। জানা যায়, এটি তৎকালিন চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় এক নেতার প্রতিষ্ঠান। ওই সময়েই সেতুর সামনে মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়। এছাড়াও সেতুর নিচে ইটের স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়। সরকারের লিজ নেয়া বলেশ্বর নদীর পানির স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শুরু হয় মাছ চাষ। যার কারণে কয়েক হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতায় ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে প্রতিবছর।

এলজিইডি নির্মিত

স্থানীয়রা জানান, এ বাঁধের কারণে বর্ষা পানির নিচে তলিয়ে যায় শত শত একর জমির ফসল। প্রথমবার বাঁধ নির্মাণের পর প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাটির বাঁধ কেটে ও ব্রিজের নিচের পাকা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবাহ সচল রাখতে লিজকারী প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়। তবে শুকনা মৌসুমে তা যেমন ছিলো তেমনই হয়ে যায়। এছাড়া বলেশ্বর নদীর সেতুর নিচে বাঁধ দেয়ায় রুকনাকান্দায় ৬২ লাখ টাকা দিয়ে নির্মিত অপর ব্রিজটিও অকেজো হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের প্রায় ৬৭ একর আয়তনের বলেশ্বর নদীটি সরকারিভাবে তিন বছরের জন্য লিজ দেয় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। লিজে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতি, অবকাঠামো অপরিবর্তন, অনুমোদন ব্যতীত উন্নয়ন কর্মকা- না করাসহ বিভিন্ন শর্তারোপ থাকলেও তা কেউ মানছে না। তবে সম্প্রতি ব্রিজের সামনের অংশে নয়, বিপরীত অংশেও মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বাঁধের কারণে উরুয়াকোনা, শ্রীধরপুর, বলুহা, রামগোপালপুর, নয়াগাঁও, রুকনাকান্দা, গুজিখাঁ, তাঁতকুড়াসহ ১৪টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদির, নেওয়াজ হোসেন জানান, বৃটিশ আমল থেকে বলেশ্বর নদী পানি চৌকা নদী হয়ে সুরিয়া নদীতে মিলিত হতো।

তবে রামগোপালপুর ইউয়িনের ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ব্রিজের সামনের অংশ ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

ব্রিজের সামনে পুকুর তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রহিম উদ্দিনের পুত্র কছুম উদ্দিন জানান, পানি চলাচলের জন্য একটি ১০ ফুট প্রস্থের খাল রাখা হচ্ছে।

পুকুরের মালিক মানিক মাস্টার জানান, নকশায় খাল বা পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাল করে দিচ্ছি।

রামগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানি প্রবাহের জন্য উন্মুক্ত ছিল, তাই জমির মালিককে নোটিস করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী তোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

"