সাতক্ষীরায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ কুটিরশিল্প

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরী কুটির শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতো শত শত মানুষ। এই জেলার তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে সরবরাহ হতো দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে। প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটের পাশাপাশি সহযোগিতার অভাবও রয়েছে। এ পেশায় নিয়োজিত ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষরা এখন ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে অনেকে ।

জানা যায়, দেশ স্বাধীনের আগে জেলায় তাঁত শিল্প গড়ে ওঠে। জেলার নলতা, সোনাটিকারী, হিজলা, চৌবাড়িয়া, বাগ নলতা, তারালি, তেঁতুলিয়া, সাতবসু, ব্রজপাটুলি, নারায়ণপুর, সাতক্ষীরা সদরসহ দুইশতাধিক গ্রামে হাজার হাজার তাঁতকল ছিলো। এখন জেলা জুড়ে ৫০টি তাঁতকলও নেই।

এই প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খানপুর গ্রামের কাত্তিক ঋষি জানান, এখন আর বাঁশ ও বেত ঠিকমত পাওয়া যায় না। আগে অল্প টাকা দিয়ে বাঁশ ও বেত কিনে ঝুড়ি, ডালাসহ বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বানিয়ে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কেউ এখন এসব কিনতে চায় না। এজন্য এখন মাটি কাটা শ্রমিকের কাজ করছি।

কাঁচামালের স্বল্পতা, মূল্যবৃদ্ধি, পুঁজি ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মাদুর তৈরী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আশাশুনি উপজেলার মানুষ। বড়দল এলাকার মাদুর কারিগর মোসলেম উদ্দীন জানান, প্লাস্টিকের পাতি দিয়ে তৈরী মাদুর এখন শহরাঞ্চলে। অল্পদামে পাওয়া যায়। মেলি দিয়ে তৈরী মাদুরের দাম বেশী হওয়ায় ক্রেতারা কিনতে চায় না। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কাচামালেরও এখন অভাব।

কালিগঞ্জ উপজেলার বাগ নলতা গ্রামের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী বিলকিস বানু জানান, তাঁতকল এখন ঠিকমত চলছে না। পুজির অভাব। আগে অনেক তাঁতকল ছিলো কিন্তু এখন আর নেই। শতাধিক তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, এ শিল্প বিকাশে সরকারী কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। তিনি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধার দাবি জানান।

 

 

"