সমবায় সমিতির কোটি টাকা আত্মসাৎ সঞ্চয়কারীদের মাথায় হাত

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক সমবায় সদস্যদের সঞ্চয়কৃত প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে, সমবায় সমিতিটির সাধারণ সম্পাদকে বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সমিতির সভাপতি শাহাজাদ আলী বাদি হয়ে গত ৭ নভেম্বর ফুলবাড়ী থানায় সমিতিটির সাধারন সম্পাদক বিরুদ্ধে একটি জিডি করেছেন। ‘প্রত্যাশার আলো’ নামে ওই কর্মকর্তার নাম মনির খান। সে ফুলবাড়ীর কাটাবাড়ী গ্রামের হোসেন খাঁ এর ছেলে। তার বিরুদ্ধে সমিতির টাকা আত্মসাতসহ ওই টাকা দিয়ে দাদন ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভুগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, পৌর বাজারের প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতি লিঃ (রেজিঃ-১১৫) এর সাধারণ মনির হোসেন খান সমবায় সমিতির ঋন দেয়ার নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে জামানতের কথা বলে বিভিন্ন ব্যাংকের ফাঁকা চেক জমা নেয়। এখন সেই চেকে মোটা অংকের টাকা লিখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নামে একের পর এক মামলা দায়ের করেছে, সেই মামলার ঘানি টানতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন সর্বসান্ত হয়ে পড়েছে।

পৌর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভুক্তভুগী নন্দলাল শাহা বলেন, গত ২০১৪ সালে প্রত্যাশার আলো সমবায় সমিতি থেকে তিনি পূবালী ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জামানত রেখে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।

সেই ঋণ প্রতিদিনের কিস্তিতে পরিশোধ করার পরেও গত ২০১৫ সালে তার নামে ৯৬ হাজার টাকার মামলা দায়ের করা হয়। এখন সেই মামলাটি আদালতে বিচারাধিন আছে। একই কথা বলেন ভুক্তভুগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী,রশিদুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ আল মামুন বাবু, আজিম সরকার।

এদিকে সমিতির সভাপতি শাহাজাদ আলী জানান, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির খান সমিতির নামে দাদন ব্যবসা শুরু করে। এ কারণে তার কাছে সমিতির হিসেব চাইলে সমিতির কার্যালয় থেকে মূল্যবান কাগজপত্র ও সম্পদ রাতের অন্ধকারে বাড়ীতে নিয়ে যায়। এমন কি সমিতির সাইবোডটিও খুলে নিয়ে যায়। এজন্য তিনি (শাহাজাদা) গত ২০১৫ সালে ১৫ অক্টোবর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অদৃশ্য কারণে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

সমিরি সভাপতি শাহাজাদ আলী বলেন, সমিতির সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন খান শুধু সমিতির নামে অবৈধ ভাবে দাদন ব্যবসায় করেনি, সে সমিতির প্রায় এক কোটি টাকা ও সম্পদ আত্মসাত করেছে।

অপরদিকে সমিতির সাধারন সম্পাদক সমিতির টাকা ও সম্পদ আত্মসাত করায় মাথায় হাত পড়েছে সমিতির সঞ্চয়কারী সদস্যদের, তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা ফেরত পাওয়া এখন অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে সমিতির সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন খানের সাথে কথা বলার জন্য, তার মুঠো ফোনে বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোনটি ধরেন নি।

তবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 

 

"