বান্দরবান সদর হাসপাতাল

হাসপাতাল ফাঁকা করে ক্লিনিকে সরকারি চিকিৎসক

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বান্দরবান প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

হাসপাতালে চেম্বার আছে। খাতায় আছে পদায়নকৃত ডাক্তারের নাম। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক। তবুও সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তার ঝুঁকেছেন প্রাইভেট ক্লিনিক প্রাকটিসে। কারণ সেখানে উপার্জন বেশি। ফাঁকা চেম্বারের সামানে থেকে বলে দিচ্ছেন, ডাক্তার কোন ক্লিনিকে আছে। ডাক্তার নিজেও বলেদেন তিনি কোথায় কখন কীভাবে কেমন চিকিৎসা পাওয়া যাবে। ফলে চিকিৎসার নামে রোগী হয়রানি আর বিপুল পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এই অবস্থা বান্দরবানের সদর হাসপাতালের। সেখানে রোগীরা নুন্যতম চিকিৎসা সেবাটুকুই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেবা বিমুখ ডাক্তার, ওষুধ কিনতে হয় দোকান থেকে।

জানা গেছে, বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক ডাক্তারসহ কতিপয় ডাক্তার তাদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার কাজে ব্যবস্থ সময় কাটানোয় কারণে রোগীরা যথাযথ ও সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক রোগী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নারী ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া শিশুসহ নারী রোগীদের মেঝেতেই চিকিৎসাগ্রহণ করতে হচ্ছে। ৫০ বেডের ২ টি পুরুষ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ শয্যাই খালি পড়ে আছে।

শীতের এ সময় শিশুসহ নারী রোগীরা মেঝেতে অবস্থানের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসকের দায়িত্বের চরম অবহেলায় সদর হাসপাতালে অব্যবস্থানা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে হাসাপাতালের রোস্টার মতে প্রতিদিন বিভিন্ন বিভাগে ১৪ জন করে ডাক্তারের উপস্থিতি এবং চিকিৎসার্থে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫-৭ জন ডাক্তারই কেবল উপস্থিত থাকেন, অর্ধেক ডাক্তারই কর্মস্থলে থাকেন না বলে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার দেখা গেছে হাসপাতালের ২জন ডাক্তার কথিত ছুটির নামে কর্মস্থলে নেই। ডাক্তার শাহানা রহমান এবং ডা. লোকেশ চন্দ্র দাশের চেম্বারেই প্রতিদিন নারী-পুরুষ রোগীদের ভিড় থাকে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, যে রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন সেই রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই বিশেষায়িত ডাক্তারের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে ধর্না দিতে হয়। অথচ সেখানে দিয়ে পাওয়া যায় সরকারি হাসপাতালেরই চিকিৎসককে।

তারা আরো জানান, সদর হাসপাতালে ২৪ ঘন্টাই উপস্থিত পাওয়া যায় ডা. লোকেশ চন্দ্র দাশকে। ভারপ্রাপ্ত আবাসিক ডা. প্রবীর চন্দ্র বণিক অফিস সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি প্রাইভেট চেম্বারে রোগী নিয়ে মহাব্যস্ত থাকেন জানিয়েছেন। ফলে জরুরি চিকিৎসা সেবা রোগীদে চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক ডাক্তারসহ কতিপয় ডাক্তার রুটিন ভিত্তিক প্রাইভেট চেম্বারে বেশি সময় কাটানোর কারণে রোগীরা হাসপাতালের চেম্বার ছেড়ে তাঁদের প্রাইভেট চেম্বারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন বাধ্য হয়ে।

হাসপাতালের এসব ডাক্তার রোগীদের প্রাইভেট চেম্ববারে দেখা করতে বাধ্য করায় গরীব রোগী ও তাদের অভিভাকরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার্থে আসা বেশির রোগীকে দোকান থেকে ওষুধপত্র কিনতে হয়, আবাসিক ডাক্তারসহ কতিপয় ডাক্তার তাদের প্রাইভেট চেম্বার বা প্রাইভেট হাসপাতাল ঘিরে গড়ে উঠা দোকানগুলোতেই মূল্যবান ওষুধপত্র সরবরাহ কারণের সদর হাসপাতাল থেকে ওষুধপত্র ঠিক মত পাছে না রোগীরা।

অভিযোগ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সদর হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক ডাক্তার প্রবীর চন্দ্র বণিক বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নেই, অফিসই সব জানেন। তিনি অভিযোগ বিষয়ে কোন কথাই বলতে রাজি নন।

সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. উদয়শংকর চাকমা বলেন, বতমানে সদর হাসপাতালে নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। পুরো জেলায় বিভিন্ন বিভাগে ১০৮ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা মাত্র ৫১ জন, আবার তাদের মধ্য থেকেও ৭ জন ডাক্তার উচ্চতর প্রশিক্ষণে চলে গেছেন।

 

 

"