দুই টন গরীবের ১০ টাকার চাল আটক

হাতেনাতে ধরা পড়ল ডিলার

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হত দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ৪০ বস্তা চাল (দুই টন) জেলা শহরে পাচার কালে ট্রাকসহ চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কসবা উপজেলার তিনলাখপীর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. রুমানা আফরোজ বাদী হয়ে ট্রাক চালক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ডিলার মো. কামরুজ্জামান রতনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার হওয়া চালক শামিম মিয়া (২৩) হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের মেড্ডা এলাকার মৃত সহিদ মিয়ার ছেলে। তাকে গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর খাড়েরা ইউনিয়নের ডিলার সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন গত বৃহস্পতিবার কসবা উপজেলার কুটি এলএসডি গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাক চালক শামিম মিয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সীল সম্বলিত ৪০ বস্তা চাল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রওয়ানা করেন। চাল ভর্তি ট্রাকটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের তিনলাখপীর এলাকায় পৌছলে স্থানীয় লোকজন আটক করে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা ইসলামকে জানান। খবর পেয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা ইসলাম, কসবা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. রুমানা আফরোজ ঘটনাস্থলে পৌছে চাল ভর্তি ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং চালক শামিম মিয়াকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া চালক শামিম মিয়া বলেন, মো. কামরুজ্জামান রতন ওই চাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজার এক চাল ব্যবসায়ীর কাছে পৌছে দিতে ভাড়ায় চুক্তি করেন।

অভিযুক্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর খাড়েরা ইউনিয়নের ডিলার মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, জব্দ করা চালের মালিক কে তিনি জানেন না। তিনি গত বৃহস্পতিবার যে চাল উত্তোলন করেছেন সেই পরিমান চাল গোডাউনে মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

কসবা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. রুমানা আফরোজ বলেন, তাঁর কার্যালয় থেকে ডিও নিয়ে খাড়েরা ইউনিয়নের ডিলার কামরুজ্জামান রতন কুটি এলএসডি থেকে চাল উত্তোলন করেন। কয়েকজন অসৎ ব্যবসায়ীর যোগসাজশে অনত্রে পাচারের সময় খাদ্য অধিদপ্তরের সীল সম্বলিত ৪০ বস্তা চালসহ ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হলে কামরুজ্জামান রতনের গোডাউনে বাজার থেকে চাল কিনে এনে জমা রেখেছেন।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, হত দরিদ্রের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ৪০ বস্তা চালসহ ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কসবা ইউএনও হাসিনা ইসলাম বলেন, হত দরিদ্রের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ৪০ বস্তা চাল পাচারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তিনি নিজেই তদন্ত করছেন। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

"