ঐতিহ্যবাহী খাবার বিক্রি বন্ধ নেতিবাচক প্রভাব পর্যটন

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বান্দরবান প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

প্রশাসনের ভয়ে বান্দরবান শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলো ঐতিহ্যবাহী খাবার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে পর্যটক ও স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। তবে প্রশাসনের অভিযোগ এই সব রেস্টুরেন্টগুলোতে ত বিভিন্ন বিপন্ন বন্য প্রাণির মাংস বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, শহরের মধ্যমপাড়া ও উজানীপাড়া এলাকার ও রাজবাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ৫ থেকে ৬টি খাবার বিক্রির রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব রেস্টুরেন্টে পাহাড়ি জুমের বিভিন্ন প্রকার সবজি, শামুক, ঝিনুক, ছোট মাছ, ব্যঙাচি, কাঁকড়া, ঝিঁঝি পোকা, হরিণ, গুইসাপ, বন্য শুকরসহ নানা প্রাণির মাংস বিক্রি হয়ে থাকে। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ছাড়াও বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা এসব রেস্টুরেন্টে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে থাকেন। নানা প্রকার মুখরোচক খাবারের জন্য এসব রেস্টুরেন্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। তবে বন্য প্রাণির মাংস বিক্রি বন্ধে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। ফলে গত কয়েক মাস থেকে রেস্টুরেন্টলোতে ঐতিহ্যবাহী অনেক খাবারই বিক্রি হচ্ছে না।

উজানী পাড়া এলাকার জুম্ম রেস্টুরেন্টের মালিক উহাইমং মারমা, মধ্যমপাড়া এলাকার তোজাহ্ হোটেলের মালিক জসইউ মারমার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দু’মাস আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্টুরেন্টলোতে অভিযান চালায়। পরে প্রত্যেক রেস্টুরেন্টকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করে। এসব রেস্টুরেন্টে শামুক, কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণির মাংস পাওয়ায় পর এই জরিমানা করা হয়। এখন জরিমানার ভয়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে এসব খাবার বিক্রি করা হচ্ছে না।

পর্যটকদের অনেকে জানিয়েছেন, সাধারণ খাবারের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন স্বাদের ওইসব খাবারের প্রতি অনেকে আকৃষ্ট হন। কিন্তু রেস্টুরেন্টগুলোতে এসব খাবার বিক্রি বন্ধ থাকায় হতাশ অনেকেই।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই রেস্টুরেন্টগুলোতে অভিযান চালানো হয়। বন্য প্রাণি হত্যা ও এর মাংস বিক্রি বন্ধে প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, মধ্যমপাড়া, উজানী পাড়ার রেস্টুরেন্টগুলোতে বিভিন্ন বিপন্ন বন্য প্রাণির মাংস বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনে বন্য প্রাণি হত্যা ও এর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে সাধারণ খাবার বিক্রিতে প্রশাসনের কোনো বাধা নেই।

 

 

"