ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে স্কুর ঘর খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খেদাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। সকালের শীত ও দুপুরের রোদে শিশুদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এতে করে পড়ালেখা ব্যাহত হওয়াসহ নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নানা সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। দিনের পর দিন এভাবে চললেও দেখার কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় সারার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন পত্র জমা দিলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের রৌমারীর উপজেলায় খেদাইমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার মানও অনেক ভালো। নদের গর্ভে বিলীন হওয়ার পর বর্তমানে বাগুয়ারচর নামক স্থানে সরিয়ে নেয়া এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে ৩শ’ ও শিক্ষক সংখ্যা ৫জন। স্থানীয়দের সহযোগীতায় বাঁশ ও টিন দিয়ে একটি চালা ঘর তৈরি করা হয়েছে। এ চালা ঘরেও ছাত্র-ছাত্রীদের জায়গা হচ্ছে না। ২০১৩ সালে সারাদেশের রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সরকারিকরণ হলে খেদাইমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও সরকারিকরণ করা হয়। চলতি বছর বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে খোলা আকাশের নীচে পাঠদানে শিক্ষার্থীদের অন্তহীন দুর্ভোগ।

প্রচ- রোদে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে খোলা আকাশের নীচে ক্লাশ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মিঠুন, লিটন, সাজেদুল, বিউটি,স্বপ্না; ৪র্থ শ্রেণির ঝর্ণা, ফারজানা; ২য় শ্রেণির রাশেদুল ও ১ম শ্রেণীর নিশি খাতুনের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন তারা খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা গ্রহণ করবে?

প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে শিক্ষা অধিদপ্তরের আর্থিক সহযোগীতায় প্রকৌশলী অধিদপ্তরের বান্তবায়নে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন এবং তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। এ বছরের ১৯ শে এপ্রিল বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী, নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়াম্যান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন পরিদর্শন করে বিদ্যালয়টি বাগুয়ারচর নামক স্থানে স্থান্তরিত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু নতুনভবন ও শ্রেণিকক্ষের সংকটে দুই শিপটে চালা ঘরে পাঠদান করাতে হচ্ছে। নতুন বছরের নতুন বই নিয়ে উৎসবের আমেজে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও শ্রেণীর কক্ষে পড়ানোর কোন পরিবেশ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি। কিন্তু আশানুরূপ কোন সাড়া পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভবন না থাকায় ঠিকমত ক্লাশও চালাতে পারছেন না শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি একটি আবেদন পেয়েছি। সমস্যাটি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

"