ভাঙাপাড়ার ‘ভাঙা’ সেতু বিপাকে লাখ মানুষ

দীর্ঘ একযুগেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
ADVERTISEMENT

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়ার ‘ভাঙা সেতু’ এখন সত্যি সত্যিই ভাঙা সেতুতে পরিণত হয়ছে। সেতুতে নেই রেলিং। বেরিয়ে এসেছে রড। ফাটল ধরেছে পিলার ও মূল সেতুতে। নির্মাণের ৬ মাসের মধ্যেই এই দশা হলেও দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরেও সংস্কার বা পুনর্নিমাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ছয় মাসে প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। বন্ধ হয়েছে এই রাস্তা দিয়ে চলা হালকা যানবাহনও। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে ১০-১২ গ্রামে লাখ মানুষ।

এলাকাবাসী জানায়, তৎকালে মূলত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর আসন্ন নির্বাচনে ভোট টানার কৌশল হিসেবে ২০০২ সালের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় নি¤œমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড ব্যবহারের ফলে নির্মাণের মাত্র ৬ বছরের মাথায়ই সেতুটির রেলিং খসে পরে। যখনই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় এর কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তখনকার প্রভাবশালীদের ভয়ে কিছুই করা যায়নি। তারপর দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এর সংস্কার করা হয়নি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা শত আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর তা কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙাপাড়ার সেতুটি দিয়ে বারুয়াখালী ইউনিয়নের ছত্রপুর, করপাড়া, ভাঙ্গাপাড়া, জৈনতপুর, দীর্ঘগ্রাম ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঘোষাইল সহ ১০টি গ্রামের লোকজন এ ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া সেতুটি পাড় হয়েই দোহার-হরিরামপুর থাকার একাংশের মানুষ বারুয়াখালী বাজার, কলাকোপা-বান্দুরা বাজার, নবাবগঞ্জ সদর ও ঢাকায় যাতায়াত করে। এছাড়া খুব বেশি জনসমাগম না হলেও দিনে ১০-১২ হাজার লোক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করে। বিকল্প পথ অনেক দূরে হওয়ায় অনন্যোপায় হয়ে ইাজবাইক, ভ্যান ও রিকশা বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে এই ব্রিজ দুটি দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। তাছাড়া সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল- কলেজ গামী শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, কিছু দিন আগে মারুফ নামের চার বছরের এক শিশু ব্রিজ থেকে পড়ে আহত হয়। কিছুদিন আগে একটি মটর সাইকেলসহ এক যুবক পড়ে গিয়েও গুরুত্বর আহত হয়। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আসলে যেকোন সরকারি কাজ করার সময় নেতারা নিজেদের পকেট ভারী করায় ব্যস্ত থাকেন। অতি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার না করলে যদি সম্পূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে যায় তাহলে স্থানীয়রা অনেক বড় সমস্যায় পড়ে যাবে।

জানা যায়, বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র মো. রানা (১৪) ভাঙা ব্রিজ থেকে পড়ে গিয়ে ডান হাত একেবারে ভেঙে গেছে। আহত হয়। এই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার জানায়, ব্রিজটি পার হওয়ার সময় আমাদের খুব আতঙ্কে থাকতে হয়।

বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান শিকদার বলেন, কিভাবে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা যায় তার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান ভূূইঁয়া বলেন, সরেজমিনে ব্রিজটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ বলেন, আমি যেহেতু নতুন এসেছি। খোঁজ খবর নিয়ে ব্রিজটি যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

 

"