পানিতে ডুবে

ফেরা হলো না সিয়াম ও নাসিফের

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

রাজশাহী অফিস
ADVERTISEMENT

ফেরা হলো না বুয়েটের মেধাবী দুই শিক্ষার্থী সিয়াম ও নাসিফের। পানিতে তলিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তারা। পুরো নগরবাসীকে শোকে স্তব্ধ করে দুঃখের গল্প হয়ে হারিয়ে গেলেন অজানার উদ্দেশ্যে। রাজশাহীর এমন দুজন কৃতি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শহরজুড়ে শোকের মাতম পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের হারিয়ে পুরো নগরী শোকে বাকরুদ্ধ।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দির পিয়াইন নদে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান নগরীর মশিউর রহমান সিয়াম ও সাঈদ নাসিফ। তারা দুজনই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিয়ামের বাড়ি নগরীর শেখপাড়া এলাকায়। তার বাবা মাহবুবুর রহমান আলো একজন পান দোকানদার। মা রুমা বেগম গৃহিণী। এই দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে সিয়ামই বড়। নাসিফের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় জামালপুরে। বাবা নুরুল ইসলাম রাজশাহী কলেজের শিক্ষক। মা নাসিমা আখতারও রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক। তারা রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে নাসিফের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে গ্রামের বাড়িতে। তারা দুজনই এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। দুজন ভালো বন্ধুও ছিলেন। তাই ভর্তিও হয়েছিলেন একসাথে।

চোখের পানি মুছে সিয়ামের মামা বেলাল উদ্দিন সাজু বলেন, পরিবারের সব স্বপ্নই ছিলো ওই সিয়ামকে ঘিরে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। সিয়ামের বাবা পান দোকানদার। সিয়ামের ইচ্ছে ছিলো স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাবে। সে জন্য তার বাবা খেয়ে না খেয়ে টাকা জমাতে শুরু করেছিলেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিয়ামের লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার বুয়েট থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থীর একটি দল সিলেটের বিছানাকান্দি বেড়াতে যান। সিয়াম ও নাসিফ ওই দলে ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা পিয়াইন নদে গোসল করতে নামেন। এ সময় পাহাড়ি ঢলের ¯্রােতে ভেসে গিয়ে সিয়াম ও নাসিফ নিখোঁজ হন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

"