নান্দাইলে কাদিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাদুরে বসেই স্কুল পার

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

একটি স্কুলে শিক্ষক ছাড়াও চেয়ার টেবিল, ব্লেকবোডর্, চক ডাস্টার ও সর্বোপুরি বেঞ্চ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ। কিন্তু বেঞ্চবিহীন অবস্থায় গত দেড় যুগ ধরে স্কুলটিতে পাঠদান চলছে। একদিকে বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত থাকায় অন্য দিকে বেঞ্চের অভাবে শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পিছনে ফসলি ক্ষেতের পাশে প্লাস্টিকের বস্তা মাটিতে বিছিয়ে পাঠদান নিচ্ছে। নেই লেট্রিন ও টিউবওয়েল। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের কাদিরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

গত সোমবার ওই বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, সারা মাঠে দালান নির্মাণের সহায়ক জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের পিছনে একটি ফসলি ক্ষেতের শুকনো জায়গায় প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থী বসিয়ে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক বাহাউদ্দিনের। এরা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে একটু দূরে একটা চালা ঘরে ২২জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাশ নিচ্ছেন শরিফা জাহান স্মৃতি। আর বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ১৮ জন শিক্ষার্ধী নিয়ে ক্লাশ করাচ্ছেন নাজমা বেগম। সকল শিক্ষার্থীই পাটের বস্তা ও প্লাস্টিকের বস্তা জোড়া দিয়ে মাটিতে বিছিয়ে পাঠ নিচ্ছে।

মাটিতে বসে কেন পাঠদান বলতেই উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মুচকি হাসতে শুরু করে। হাসির রহস্য কী জানতে চাইলে, পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে উঠে, ‘বওনের জায়গা নাই আবার বেঞ্চ।’

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় বেসরকারি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ওই বছর থেকে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১০ জোড়া বেঞ্চ চুরি হয়ে যায়। এর পর গত ১৮ বছর ধরে বেঞ্চ ছাড়াই পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়টিতে মোট ২শ ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। বেঞ্চ ছাড়াও বিদ্যালয়টিতে অন্যান্য উপকরণ নেই বললেই চলে।

সহকারী শিক্ষক বাহাউদ্দিন জানান, পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার ঠেকাতে ভবনের দরজা কাটা দিয়ে বেরিকেড দেয়ার কথা বলেছিল প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির একটি করে ক্লাস পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে বসানো হয়। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস ধান খেতের পাশে খালি জমিতে ও একটি টিনের ছাউনি দেওয়া খোলা চালার নিচে বসানো হয়।

বেঞ্চে বসার বিষয়ে জানতে চাইলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব জানায়, ‘বেঞ্চ না থাহলে কি করবাম, পড়ন তো লাগবো। না অইলে শিখবাম কেমনে।’

এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী আব্দুর রজ্জাক নামে একজন বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে এ ধরনের স্কুল দেশের কোথাও আছে কী না। ছিটমহলের মতো এলাকায় এ ধরনের অবস্থা বিরাজ করছে কীনা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনার কলি নাজনিন জানান, বেঞ্চ নেই এটা আমি প্রথম জানলাম। এখন খোঁজ খবর নিয়ে বেঞ্চ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর টিও নাজনিন এখানে যোগ দিলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয় গুলিতে পরিদর্শনে যাননি। ফলে জড়াজীর্ন,পরিত্যক্ত ভবনগুলিতে কিভাবে পাঠদান হচ্ছে তা অবগত নন।

"