দেড় হাজার পরিবার গৃহহীন

তিস্তা-ধরলার ভাঙন অব্যাহত

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

লালমনিরহাটে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও তিস্তা ও ধরলা নদী যেন আরেক রুপ ধারন করেছে। দীর্ঘদিন এ নদী দুটির তীরবর্তী লক্ষাধীক মানুষকে পানিতে ভাষিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে রাখার পর এবার ভাঙ্গনের তান্ডব চালিয়ে ভিটেমাটি কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। ভাঙ্গনের কবলে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে শত শত আবাদি জমিসহ একের পর এক বসতভিটা। তিস্তা-ধরলার এমন আচরনকে নিষ্ঠুর নির্যাতন উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

খোজ নিয়ে জানাগেছে, ভাঙ্গনের কবলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলো হচ্ছে, পাটগ্রাম উপজেলার বাঁশকাটা ছিটমহল, হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, চর গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি, সির্ন্দুনা, নয়ারহাট, সিঙ্গিমারী, পাটিকাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈলমারী, আমিনগঞ্জ, বৈরাথি, আউলিয়ারহাট, হাজীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, চর গোবর্ধন, বালুর বাঁধ, দুর্গাপুর এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও কুলাঘাট। সরেজমিনে গেলে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুঠি গ্রামে দেখা যায়, ভাঙ্গনের ভয়াবহ রুপ। সেখানে এরই মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত আবাদি জমিসহ প্রায় তিন শতাধিক বসতভিটা। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এরই মধ্যে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, ভাঙ্গনে ভিটেহারা পরিবারের নির্দিষ্ট সংখ্যা এই মুহুর্তে বলা কঠিন। কেননা প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। তবে গত এক সপ্তাহ আগে সরকারী রিপোর্টে ১ হাজার ১৪৮ টি বসতভিটা বিলীন হওয়ার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে ভাঙ্গনে ভিটেহারা মানুষদের মধ্যে ইমিধ্যে ২৬ লাখ টাকা ও ২৫০ বান্ডিল টিন বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৯ লাখ টাকা ও ৩০০ বান্ডিল টিন বরাদ্দ এসেছে বলেও জানান।

"