গাইবান্ধায় যমুনার ভাঙন

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতংকে ওইসব এলাকা থেকে লোকজন ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চন্দনস্বর, উত্তর খাটিয়ামারি, পশ্চিম খাটিয়ামারি, পূর্ব খাটিয়ামারি, কুচখালি, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা, গলনা, ভাজনডাঙ্গা, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কঞ্চিপাড়া এবং উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, কালাসোনার চর ও উত্তর উড়িয়া গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের মুখে পড়েছে ফজলুপুর ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জালাল জানান, এক সময়ে সেখানে ৫ হাজার ৪৬৩টি পরিবারের বাস ছিল। ১৯টি গ্রামে এসব পরিবার বসবাস করতো। ইতিমধ্যে নিশ্চিন্তপুর, কৃষ্ণমনি, মনোহরপুর, মানিকচর, চিনিরপটল, চৌমহন ও কুচখালিসহ ৭টি গ্রাম সম্পুর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া চন্দনস্বর, উত্তর খাটিয়ামারি, পশ্চিম খাটিয়ামারি ও পূর্ব খাটিয়ামারি গ্রামের ৭৫ ভাগ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বিভিন্ন সময়ে শত শত পরিবার গৃহহারা হওয়ায় বর্তমানে ওই ইউনিয়নে ৪ হাজার ১১১টি পরিবার বসবাস করছে। গত এক সপ্তাহে ওই ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ শ’ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের চন্দনস্বর গ্রামের ৫৫টি পরিবার গৃহহারা হয়ে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে চন্দনস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাটিয়ামারি নুরানী মাদ্রাসা, ফজলুপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন এবং ৯টি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদী ভাঙনের মুখে গোটা ফজলুপুর ইউনিয়নের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা, জিয়াডাঙ্গা, ভাজনডাঙ্গা, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, কালাসোনা ও উত্তর উড়িয়া গ্রামে গত এক সপ্তাহে অন্ততঃ ৫০ পরিবার গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন বাঁধে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এসব নিঃস্ব পরিবারের সাহায্যার্থে তেমন কেউ এগিয়ে আসছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি বলে জানান, ফজলুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন জালাল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, চরাঞ্চলের ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

"