হারের বৃত্ত ভাঙল বরিশাল

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে সবচেয়ে বেশি টানা ম্যাচ হেরেছে বরিশাল বুলস। ধারাবাহিক ৬ ম্যাচে হার মুশফিকুর রহিমের দলকে ঠেলে দিয়েছে খাদের কিনারে। অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জয়ে ফিরেছে বরিশাল। কাল রাজশাহী কিংসকে ১৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখল তারা। পক্ষান্তরে, পরপর দুই ম্যাচ হেরে ইলিমিনেটর পর্বে যাওয়ার রাস্তাটা আরো কঠিন করে তুলল ড্যারেন সামির দল। শিরোপাস্বপ্ন জিইয়ে রাখতে তাই শেষ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই রাজশাহীর কাছে।

লক্ষ্যটা ১৬২ রানের। মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় টার্গেটা একটু কঠিনই। কিন্তু অসম্ভব নয়। বরিশাল বুলসের ছুড়ে দেয়া টার্গেটের বিপরীতে শুরুটা দারুণই করেছিল রাজশাহী কিংস। প্রথম ১৩ বলে দ্বিগুন রান করেছিলেন দুই ওপেনার মুমিনুল হক ও নুরুল হাসান। কিন্তু শুরুর ঝড়টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই ফিরে যান ৬ বলে ১২ রান করা নুরুল। কিছুক্ষণ পর তার পদাঙ্ক অনুরসণ করলেন আরেক ওপেনার মুমিনুলও। ১৬ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের শুরু থেকেই আস্কিং রেট চেপে ধরেছিল রাজশাহীকে। দ্রুতগতিতে রান তোলার খেসারতও দিতে হয়েছে তাদের। একাদশ ওভারের পঞ্চম বলে রাকিবুল হাসান ফিরে গেলে জয়ের আশা প্রায় ফিকে হয়ে যায় রাজশাহীর। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস মেরামতের কাজের দায়িত্বটা নিলেন সামিত প্যাটেল। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয়ের আশাটা পুণরুজ্জীবিত করেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। সতীর্থরা সাজঘরে আসা-যাওয়ার মিছিলের সময় নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ ৫১ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন প্যাটেল। রিয়াদ ইমরিটকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে প্যাটেল ক্যাচ তুলে দেন শাহরিয়ার নাফীসের হাতে। শুধু প্যাটেলই নয়, রাজশাহীর ব্যাটিং ভরসা সাব্বির রহমান এবং শেষ দিকে ফরহাদ রেজাকেও শিকারে পরিণত করেন ইমরিট। বরিশালের জয়ের পথটা সহজ হয় তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই। শেষ দিকে ফ্র্যাঙ্কলিনের ১৮ এবং সামির ১১ রানের অজেয় ইনিংস দুটো শুধু রাজশাহীর পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

ইমরিট বল হাতে দলের জয়ে অবদান রাখায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন এটা ঠিক। কিন্তু জয়ে অবদান কোনো অংশে কম ছিল না ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানের। কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বরিশালকে দারুণ সূচনা এনে দেন তিনি। ম্যাচের দশম বলে জীবন মেন্ডিস ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে ফজলে মাহমুদকে নিয়ে এগুতে থাকেন মালান। দু’জন মিলে গড়ে তোলেন শতরানের জুটি। বরিশাল বুলসের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের মূল কান্ডারি ছিলেন এই যুগলই। ৩৩ বলে ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দুর্ভাগক্রমে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মালান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বরিশাল বুলস : ২০ ওভার, ১৬১/৪ (মালান ৫৬, ফজলে ৪৩, পেরেরা ২৯*, শাহরিয়ার ১৬*; সামি ১/১৬, মিরাজ ১/৩৪, রেজা ১/৩২)

রাজশাহী কিংস : ২০ ওভার, ১৪৪/৭ (প্যাটেল ৬২, ফ্র্যাঙ্কলিন ১৮, মুমিনুল ১৬, নুরুল ১২; ইমরিট ৩/২৭, ১/৬, মনির ১/১৭)

ফল : বরিশাল বুলস ১৭ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : ডেভিড মালান (বরিশাল বুলস)।

"