ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা ডেস্ক
ADVERTISEMENT

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল ব্রাজিলের ফুটবল। কিন্তু এমন একটা সময়েই তাদের ওপর নেমে এল ফুটবল ইতিহাসের ভয়াবহ এক বিপর্যয়। কলম্বিয়ার মেদেচিন শহরে যাওয়ার পথে গত সোমবার একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৭৬ জন নিহত হয়েছেন। বিমানে ব্রাজিলের একটি ফুটবল দলের সদস্যসহ ৭২ জন যাত্রী ও নয়জন ক্রু ছিলেন। ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের প্রথম বিভাগে খেলে শাপোকোয়েনসে। জানা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট কোপা সুদামেরিকানার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো ন্যাসিওনালের বিরুদ্ধে খেলতেই কলম্বিয়া যাচ্ছিল দলটি। মেদেচিনে বুধবার হওয়ার কথা ছিল ফাইনাল ম্যাচটি। এই ঘটনার পর ফাইনাল স্থগিত করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্বভাবতই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে বিশ্ব ফুটবল। প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত পরিণতির আশঙ্কায় শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা বিশ্বে। শাপোকোয়েনসে টিমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, সাও পাওলো বিমানবন্দরে চেক ইন করছেন খেলোয়াড়েরা। বিমানের ভেতরে খেলোয়াড়দের মিঠে খুনসুটির ভিডিও-ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে থাকে। প্রিয় খেলোয়াড়দের মাঠের নানা মুহূর্তের ছবি পোস্ট করতে থাকেন ফ্যানেরা। যে তিন খেলোয়াড়কে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেও সবাই বার্তা পাঠাতে থাকেন।

ধারণা করা হচ্ছে, কেবল ব্রাজিলই নয়, ফুটবল ইতিহাসের এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বিপর্যয়গুলোর অন্যতম এই বিমান দুর্ঘটনাটি। এই ঘটনায় শোক জানিয়েছেন বিশ্বের সব দেশের ফুটবল সংস্থা এবং ক্লাবগুলো। পূর্বে এমনই এক বিমান দুর্ঘটনার শিকার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অফিসিয়াল সাইট থেকে টুইট করে বলা হয়, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সকলে শাপোকোয়েনসে এবং ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে।’ রিয়াল মাদ্রিদের সাইট থেকে বলা হয়, ‘রিয়াল মাদ্রিদ বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাজিলিয়ান ক্লাব শাপোকোয়েনসের সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রার্থনা করছি তারা যেন দ্রুত এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারে। বার্সেলোনার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের সমবেদনা এবং সহমর্মিতা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি।’ ম্যানইউ তারকার ওয়েইন রুনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে খুবই মর্মান্তিক খবর।’ ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের ব্যক্তিগত ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে আপ করা হয় শাপোকোয়েনসে ক্লাবের লোগো। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজেদের শোক জানিয়েছেন আর্সেনাল, লিভারপুল, এসি মিলান, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, হুলিও কোর্তোয়া, রাকিতিচসহ বিশ্বের প্রায় সব ফুটবল সংগঠন এবং ফুটবলপ্রেমীরা।

এর আগে সর্বশেষ ফুটবল অঙ্গনে নেমে আসা বিপর্যয়ের খোঁজ করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০১২ সালের মিসরের পোর্তো সাঈদ স্টেডিয়ামে। তবে এটি ছিল মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। সেদিন মিসরের ঘরোয়া লিগের দুই দল আল মাসরি এবং আল আহরি একে অপরের বিপক্ষে খেলছিল। যে ম্যাচে আল মাসরি ৩-১ গোলে জয়লাভ করে কিন্তু এমন পরাজয় মানতে পারেনি আল আহলির সমর্থকরা। তারা ছুরি, বোতল, কাঠ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ওপর। সে ঘটনায় ৭৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল এবং আহত হয়েছিল ১ হাজারের ওপর লোক।

পরের ঘটনাটি ১৯৯৬ সালে; যা হিলসবার্গ ট্র্যাজেডি নামে পরিচিত। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় এটি। সেদিন এফএ কাপের ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে খেলছিল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দিলে হাজার হাজার দর্শক স্রোতের মতো মাঠে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। ফলাফল ৯৬ জনের মৃত্যু এবং ৭০০-এর অধিক লোকের ইনজুরি।

তার আগের দুর্ঘটনাটিও ইংল্যান্ডে। ১৯৮৫ সালে ব্রাডফোর্ড স্টেডিয়ামে সেদিন খেলা চলাকালীন এক দর্শক সিগারেট খেয়ে আসনের ফাঁকে ময়লার স্তূপে ছুড়ে মারে। এই সিগারেটের আগুন পরে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে রূপ নেয়। যেখানে ৫৬ জন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। তবে এ রকমই একটি বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে। মিউনিখ বিমানবন্দরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের বহনকারী বিমানটি সেদিন বিধ্বস্ত হয়েছিল, যাতে ২৩ জন লোক মারা গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন ইউনাইটেডের ৮ জন ফুটবলার।

"