বেরসিক উইকেট

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বিপিএলের চলমান আসরের ঢাকাপর্বের শুরুটা ছিল একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে। উইকেট খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে অনেক পরে। তবে সত্যিকারের টি-টোয়েন্টি রোমাঞ্চ দেখা গেল চট্টগ্রামপর্বে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে কোনো অসন্তোষ ছিল না ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। চট্টগ্রাম ঘুরে লিগ আবার ঢাকায় ফিরেছে। ৭টি ম্যাচও হয়েছে। কিন্তু ঠিক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। কারণটা দুর্বোধ্য উইকেট। এমনকি বোলাররাও হচ্ছেন বিব্রত!

১০ দিনের বিরতি দিয়ে ঢাকায় ফের শুরু হয়েছে বিপিএল। কিন্তু উইকেটের পুরনো চেহারাটা আবার দেখা দিয়েছে নতুন রূপে। দেড় শ করতেই দলগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাল পর্যন্ত যে কটি ম্যাচ হয়েছে, এর প্রায় সবই ছিল লো স্কোরিং। বল নিচু হয়ে যাওয়া, উইকেটের মন্থর গতির কারণে ব্যাটসম্যানদের রান তুলতে দিতে হচ্ছে অগ্নিপরীক্ষা। ঢাকায় যেখানে দলীয় সংগ্রহ দেড় শ যেতেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে, তখন চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি ম্যাচেই রান হয়েছে এক সত্তরের বেশি।

অথচ মিরপুরে এখন ১৩০ রান তাড়া করাই হয়ে উঠেছে দুঃসাধ্য। এই যেমন রোববার প্রথম ম্যাচে বরিশাল বুলসের ১৩২ রানের জবাব দিতে নেমে জয়ের জন্য শেষ ওভার পর্যন্ত যেতে হয়েছে দারুণ ছন্দে থাকা ঢাকা ডাইনামাইটস। কাল দিনের একমাত্র ম্যাচটিও হয়ে লো স্কোরিং। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কোনো রকম ১২৮ রান করেছে রাজশাহী কিংস। এই রান তাড়া করতে কী নাজেহলটাই না হলেন আফ্রিদি-নাঈমরা! গুটিয়ে গেছেন মাত্র ৭৯ রানে।

পরশুর দ্বিতীয় ম্যাচটা দিয়ে অবশ্য উইকেটের সত্যিকারের মূল্যায়ন করা কঠিন। চিটাগং ভাইকিংসকে কোনো রকম সোয়া এক শ টার্গেট দিয়েছিল রংপুর। তবে ভাইকিংস ৯ উইকেট ও ৪ ওভার হাতে নিয়ে জিতেছে তামিম ইকবাল ও ক্রিস গেইল তা-বের কারণে। তবে দারুণ জয় পাওয়ার পরও উইকেট নিয়ে ক্ষুব্ধ ভাইকিংস কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে চট্টগ্রামের উইকেট ঢাকার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। ওখানে আমরা ১৮০ রানও তাড়া করেছি। কিন্তু এখানে মনে হচ্ছে ১২৫ রানও অনেক কঠিন। আমার মনে হয়, টি-টোয়েন্টির জন্য এ রকম উইকেট একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। খেলোয়াড়েরা শট খেলতে দ্বিধায় থাকে। আমার মনে হয় উইকেট আরেকটু ভালো হলে খেলোয়াড় এবং দর্শকের জন্য ভালো হয়।’

দশ দিন পরিচর্যার সময় পাওয়ারও পরও উইকেটের এমন হাল দেখে ভাইকিংস কোচের বিস্ময় আকাশ ছুঁয়েছে, ‘আমি আসলে পুরোপুরিই অবাক হয়েছি। ঢাকায় আসার পর দেখি প্রথম দিনই বল অনেক নিচু হচ্ছে। উইকেটটা প্রায় ১০ দিন বিশ্রাম পেয়েছে। এখানে তাই ভালো উইকেট আমরা আশা করতেই পারি। পাঁচ-ছয় দিন খেলা হওয়ার পর উইকেট খারাপ হলে তবু কারণ থাকত। কিন্তু ১০ দিন পর এসেও যদি উইকেট বাজে হয়, এটা তো অবশ্যই খারাপ লাগবে।’

"