হারের বৃত্তে রংপুর

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

চট্টগ্রাম থেকে বিপিএল ঢাকায় ফেরার পর যেন শনির দশা ভর করেছে রংপুর রাইডার্সের উপর। টানা তিন ম্যাচ হেরে রীতিমত দিশেহারা হয়ে উঠেছে নাঈম ইসলামের দল। তাদের এবারের হারটি রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে। ড্যারেন সামির রাজশাহীর ছুড়ে দেয়া ১২৮ রানের জবাব দিতে নেমে মাত্র ৭৯ রানে গুটিয়ে গেছেন আফ্রিদি-নাঈম-শেহজাদ-মিঠুনরা। ৪৯ রানের বিশাল জয়ে ইলেমিনেটর পর্বে যাওয়ার রাস্তাটা আরো সুগম হলো রাজশাহীর। এনিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল নবাগত দলটি।

ঢাকাপর্বের শুরু থেকেই কাঠগড়ায় উইকেট। দ্বিতীয় দফার খেলাতেও উইকেটের বৈষম্যমূলক আচরণ হতাশ করছে ব্যাটসম্যানদের। কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দিনের একমাত্র ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ভুগল রাজশাহীও। নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে মাত্র ১২৮ রান জমা করে সামির দল।

পরপর দুই ম্যাচে তা-ব দেখিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন সামি। কিন্তু কাল ফর্মটা ধরে রাখতে পারেননি। আউট হয়েছে মাত্র ৫ রানে। কিছুক্ষণ সাজঘরে ফিরলেন সাব্বির রহমান। দশম ওভারে রাজশাহীর স্কোর তখন ৭ উইকেটে ৪৩! এই ভয়াল বিপর্যয় থেকে তারা রক্ষা পেয়েছে অষ্টম উইকেটে ৮৫ রানের দারুণ জুটিতে। দুঃসময়ে দলের ত্রাতা হয়ে হাজির হন ফরহাদ রেজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

ইংল্যান্ড সিরিজে মিরাজকে দেখা গেছে দুর্দান্ত বোলার হিসেবে। বিপিএলেও তাঁকে শুধু বোলার হিসেই আলো ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে কাল দেখা মিলল ব্যাটসম্যান মিরাজের। চাপের মুখে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ করেছেন টাইগার সেনসেশন। বিপিএলে আগের ৯ ম্যাচে ৬ ইনিংসে মিরাজে ২০ রান করা মিরাজ কাল হাজির হলেন বিধ্বংসী রূপে। ফরহাদ রেজার সঙ্গে ঝড় তুলে অলআউটের শঙ্কায় থাকা দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন মিরাজ।

তবে তিনি শুরুটা করেছেন ধীরে সুস্থে। তৃতীয় বলে প্রথম বাউন্ডারি হাঁকানো মিরাজ পরেরটি জন্য অপেক্ষা করেছেন ২১ বল। মিরাজ সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হয়েছেন রুবেল হোসেনের করা শেষ ওভারে। প্রথমে স্কুপে চার, পরের বলেই উড়িয়ে মেরেছেন লং অফ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী অলরাউন্ডার অপরাজিত ৩৩ বলে ৪১ রান। এক প্রান্তে মিরাজ তো আরেক পাশে জ্বলে উঠেছেন ফরহাদ রেজা। ৩২ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসটায় চার-ছক্কা সমান, দুটি করে। মিরাজ-ফরহাদের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটিই রাজশাহিকে পথ দেখিয়েছে।

১২৯ রানের মামুল টার্গেট দিতে গিয়ে তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে রংপুর রাইডার্সের ইনিংস। নাজমুল-রাজুদের তোপে এদিন রংপুর এতটাই নাস্তানাবুদ হলো যে শেহজাদ আর মিঠুন ছাড়া কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেহজাদ ১২ এবং দলীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেছেন মিঠুন।

ব্যাট হাতে ঝড় তোলা মিরাজ ২ ওভারে ১২ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট। হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী কিংস : ২০ ওভার, ১২৮/৭ (সাব্বির ১৬, মিরাজ ৪১*, ফরহাদ ৪৪*; সানি ৩/৩১, আফ্রিদি ২/১০, ডসন ১/২৭)।

রংপুর রাইডার্স : ১৭.৪ ওভার, ৭৯ (শেহজাদ ১২, মিঠুন ২০, আফ্রিদি ৭, সানি ৯; মিরাজ ২/১২, নাজমুল ৩/৮, আবুল ৩/১১)।

টস : ড্যারেন সামি (রাজশাহী কিংস)।

ফল : রাজশাহী কিংস ৪৯ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান মিরাজ (রাজশাহী কিংস)।

"