হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা ডেস্ক
ADVERTISEMENT

জিমি-চয়ন-আশরাফুলদের অসাধারণ নৈপুণ্যে এএইচএফ (এশিয়ান হকি ফডারেশন) কাপ হকিতে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। এর আগে পুল ‘এ’ থেকে হংকং-তাইপে এবং ম্যাকাওকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে ওঠে বাংলাদেশ। এরপর পুল ‘বি’র রানার্সআপ সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে জিমিরা।

এ জয়ের ফলে ২০১৭ সালের এশিয়া কাপে খেলার টিকিটও পেল বাংলাদেশ। এ টুর্নামেন্টে ২০০৮ সালে প্রথম এএইচএফ কাপ জেতা বাংলাদেশ ২০১২ সালে জিমিদের হাত ধরে মুকুট ধরে রেখেছিল।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের তিন গোলদাতা জুবায়ের হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও এএইচএম কামরুজ্জামান।

আগের চার ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর সুখস্মৃতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে বাংলাদেশের ভয়ও ছিল। ২০১৪ সালে এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে খেলা ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শুট আউটে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হেরে যায়। ওই বছরই হকি ওয়ার্ল্ড লিগে বাংলাদেশ ৩-২ গোলে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। এরপর চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে দুবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। গ্রুপ পর্বে ২-০ ও পরে ব্রোঞ্জপদক জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৪-১ গোলে। শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি জানিয়েছিলেন আগ্রাসী খেলা উপহার দেওয়ার কথা। তাই টুর্নামেন্টজুড়ে অপ্রতিরোধ্য খেলা বাংলাদেশ জয়ের আশা নিয়ে রোববার হংকংয়ের কিংস পার্ক হকি গ্রাউন্ডে খেলতে নেমেছিল। তাছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে দাপটে পারফরম্যান্স আগে থেকেই আশা জাগাচ্ছিল বাংলাদেশকে। অবশ্য শুরুতে বেশ সমানে সমানে খেলতে থাকে লঙ্কানরা। তবে ম্যাচে সময় যতই গড়িয়েছে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে জিমি-চয়নরা। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধেই ধরা দেয় সফলতা। ম্যাচের বয়স যখন ২২ মিনিট, তখন ফিল্ড গোল থেকে বোর্ডে বল ঠেলে দলকে ১-০তে এগিয়ে দেন জুবায়ের। হংকংয়ের আসরে এটি জুবায়েরের দ্বিতীয় গোল।

পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধেই সমতায় ফিরতে চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশের গড়া রক্ষণে তাদের প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত হলে পিছিয়ে থেকেই যেতে হয় বিরতিতে। বিরতির পরে আক্রমণের ধারা বাড়িয়ে বাংলাদেশ চেয়েছে লিড বাড়াতে আর লঙ্কানরা চেয়েছে সমতায় ফিরতে। এই লক্ষ্যে অবশ্য সফল হয়েছে বাংলাদেশই। আশরাফুল ইসলাম ৬১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করলে ২-০তে এগিয়ে যায় গেল দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই তরুণ খেলোয়াড়। এ নিয়ে আশরাফুলের গোল হলো ৯টি। ৬৯তম মিনিটে আবারো পেনাল্টি কর্নার থেকে আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোলটি। এবারের গোলের নায়ক কামরুজ্জামান। এই জয়ে টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএইচএফ কাপ শেষ করল বাংলাদেশ। আসরের আয়োজক দেশ হংকংকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এই জয়ে উজ্জ্বীবিত জিমি-চয়নরা গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে একই ব্যবধানে চাইনিজ-তাইপেকে হারায়। এরপর দুরন্ত আশরাফুল ইসলামের হ্যাটট্রিকে ১৩-০ ব্যবধানে ম্যাকাওকে বিধ্বস্ত করে পুল ‘এ’র চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।

এএইচএফ কাপের এবারের আসরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি গোল (৩২টি) দিয়েছে; খেয়েছেও সবচেয়ে কম; মাত্র চারটি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯ গোল করেছেন আশরাফুল। চারটি করে গোল আছে জিমি, পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন, রোমান সরকারের। তিনটি গোল করেন সারোয়ার হোসেন। এর আগে ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

"