গোল উৎসবে ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

খেলা ডেস্ক
ADVERTISEMENT

সিঙ্গাপুরকে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো এএইচএফ (এশিয়ান হকি ফেডারেশন) কাপ হকির ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। গতকালের সেমিফাইনালে ৮-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে জিমি-চয়নরা। ২০০৮ সালে প্রথম এএইচএফ কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১২ সালেও মুকুট ধরে রাখে লাল-সবুজের দল। এবার তৃতীয় শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে তারা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা অথবা স্বাগতিক হংকং। এর আগে পুল ‘এ’ থেকে হংকং-তাইপে এবং ম্যাকাওকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে ওঠে বাংলাদেশ।

প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগে থেকেই ফেভারিট ছিল বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে সর্বশেষ চারবারের সাক্ষাতে প্রত্যেকটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের হকি দল। গতকাল জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে সমীহ জানানোর কথা বলে মাঠে নেমেছিল জিমিরা। তবে মাঠে বাংলাদেশকে ন্যূনতম পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সিঙ্গাপুর। উল্টো ৮ গোলের লজ্জায় মাথায় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে তাদের।

গতকাল শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে বাংলাদেশের ছেলেরা। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত করে রাখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে। অবশ্য প্রথম গোলের দেখা পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ২৬ মিনিট পর্যন্ত। হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে প্রথম আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন মিলন হোসেনের ফিল্ড গোল। এই গোলে গেরো খোলার পর ছন্দে ফিরে চয়ন-আশরাফুলরা। তার পরই শুরু হয় গোলবন্যার উৎসব। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে বাংলাদেশ সময় নেয় মাত্র ৩ মিনিট। ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার গোলটি আসে রোমান সরকারের কাছ থেকে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়ে প্রথমার্ধেই খেলায় ফিরতে চেষ্টা করেছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু জিমিদের গড়া দৃঢ় রক্ষণে তাদের প্রতিটি আক্রমণ ব্যাহত হলে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে পিছিয়ে থেকেই যেতে হয় বিরতিতে।

তবে বিরতির পর আরো ক্ষুরধার হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আক্রমণের ধারা অব্যাহত রেখে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো বিপর্যস্ত করে রাখে তারা। এই অর্ধে গোল আসে আরো ৬টি। ধারাবাহিক আক্রমণের ফলস্বরূপ ম্যাচের ৩৭ মিনিটে স্কোর ৩-০ করেন রাসেল মাহমুদ জিমি। পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ মামুনুর রহমার চয়ন পেনাল্টি কর্নারেই বাংলাদেশকে ৪ গোলে এগিয়ে দিলে ৪৮ মিনিটে ম্যাচ থেকে আক্ষরিক অর্থে ছিটকে পড়ে হংকং। কিন্তু এতটুকুতে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে করে আরো চার গোল। ৫০ মিনিটে পঞ্চম গোলটি এসেছে পুস্কর খীসা মিমোর স্টিক থেকে। ৫ মিনিট পর কৃষ্ণ কুমার ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়ে যান ৬-০ তে। সবার ভিড়ে গোলের দেখা পাচ্ছিলেন তরুণ ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলাম। গত ম্যাচে ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ একাই পাঁচ গোল করেছিলেন তিনি। কাল জ্বললেন ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে বিকেএসপির এই খেলোয়াড়। পেনাল্টি কর্নার থেকে সপ্তম গোল করেন ম্যাচের ৬৬ মিনিটে। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে আশরাফুল সময় নেন ৩ মিনিট। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আরো একবার লক্ষ্যভেদ করে এই যুবার স্টিক। এই গোলের মধ্যে দুই হালি গোলের বৃত্ত পূরণ করেন বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কফিনে ঠুকে দেন ম্যাচের শেষ পেরেকটুকুও।

চয়ন ও জিমির দারুণ নৈপুণ্যে স্বাগতিক হংকংকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে এবারের আসর শুরু করে ফেভারিট বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ চায়নিজ-তাইপেকেও একই ব্যবধানে হারিয়ে যায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আশরাফুলের ইসলামের হ্যাটট্রিকে ম্যাকাওকে ১৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ যেই হোক তৃতীয় শিরোপার অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে ঠেকাতে হলে অসাধারণ কিছুই করে দেখাতে হবে তাদের।

 

 

"