রংপুরকে মাটিতে নামাল রাজশাহী

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল
ADVERTISEMENT

শেষ দশ ওভারে দরকার ১০২। লক্ষ্যটা অসম্ভব নয়। কিন্তু কঠিন। হাতে ন’টি উইকেট অক্ষত থাকায় রংপুর রাইডার্সের জয়ের আশাটা? একেবারে অমূলক ছিল না। ইনিংসের প্রান্তসীমায় মোহাম্মদ মিঠুনের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং নাঈম ইসলামের ছোটখাটো ঝড়ে কক্ষপথেই ছিল রংপুর। ইনিংসের উনিশতম ওভারে মোহাম্মদ সামি গড়ে তোলেন প্রতিরোধ, খরচ করেন মাত্র ৩ রান। ম্যাচটা নির্ধারণ হয়ে গেছে পাকিস্তানি পেসারের ওভারটাতেই। শেষ ওভারে ২৫ রানের প্রায় অসম্ভব সমীকরণটা মেলাতে পারেনি রংপুর রাইডার্স। উইকেট জিইয়ে রাখাটাই কাল হলো তাদের জন্য। তাতেই থামল ছুটতে থাকা, উড়তে থাকা রংপুরের জয়রথ। রাজশাহী কিংসের তৃতীয় জয়ে বাড়ল বিপিএলের রোমাঞ্চও।

১২ রানের দারুণ জয়ের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা অবধারিতভাবেই উঠল সামির হাতেই। তবে এই সামি অন্যজন। রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন সামি। আসরজুড়ে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার কাল ব্যাট হাতে ধারণ করলেন রুদ্রমূর্তি। তার চার-ছক্কার বৃষ্টিতে শেষ তিন ওভারে রাজশাহী তুলল ৫৫ রান। তাকে সঙ্গে দেওয়া উমর আকমলও ঝড় তুললেন। এ মানিকজোড়ের ব্যাটিং দৃঢ়তায় নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৫ উইকেটে ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়েছে রাজশাহী। তবে বোলারদের পাওয়া লড়াকু সংগ্রহের আসল সঞ্চারক কিন্তু সামিই।

অবশ্য মাঠে নামার আগেই দারুণ একটা সুসংবাদ পেয়ে গিয়েছিল রাজশাহী কিংস। মোকাবিলা করতে হয়েছে শহিদ আফ্রিদিবিহীন রংপুর রাইডার্সকে। চট্টগ্রামপর্ব শেষে ঘটা করেই তারকা অলরাউন্ডার পাকিস্তানে ফিরে গেছেন, ‘শহিদ আফ্রিদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে। ঝটিকা সফর শেষে কাল আফ্রিদি যখন দলে ফিরলেন ততক্ষণে তার শূন্যতা ঠিকই টের পেয়ে গেছে রংপুর। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ জাভেদ ওমর বেলিমও আফ্রিদির অনুপস্থিতিকে বড় করে দেখলেন। আফ্রিদি না থাকায় একাদশে ঢুকে পড়েছেন নাসির জামসেদ। বিপিএলের চলমান আসরে প্রথম ম্যাচটায় অবশ্য নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে পারেননি। ২৭ রানের ইনিংস খেলেও শুনেছেন রংপুর সমর্থকদের দুয়ো। কারণ তার ইনিংসটি ছিল শম্বুক গতির। খরচ করেছেন ২৮ বল। তবে হারের দায় বর্তাবে আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদের কাঁধেও। আধুনিক ক্রিকেটের সংস্করণে কাল রীতিমতো প্রস্তুর যুগের ব্যাটিং-ই করলেন আফগান ব্যাটসমান! ২৬ বলে দুই চারে করেছেন ১৬ রান। দুই ওপেনারের ‘ধীরে চলো নীতি’ ম্যাচে নাঈম ইসলামের দলের তরী প্রায় ডুবিয়ে দিয়েছিল!

১৬২ রানের জবাবে শুরুর ১০ ওভারে কোনো দলের স্কোর বোর্ডে ৬১ রান জমা করা মানে খাল কেটে কুমির ডেকে আনা। তবে ইনিংসের মাঝপথে ব্যাকফুটে থাকার পরও আশার প্রদীপ জ্বেলেছিল রংপুর রাইডার্স। কারণটা ভান্ডারে পর্যাপ্ত উইকেট থাকা। দলীয় ২৮ রানে শাহজাদকে হারানোর পরও কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে নির্ভীক ছিল তারা। ৬৮ রানে দলের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে জামসেদ সাজঘরে ফেরার পরই আস্কিং রেট চেপে ধরে রংপুরকে।

পরিস্থিতির দাবি মেটানোর দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৩৬ বলে ৬২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে তিনিই রংপুরের আশার প্রদীপ হয়ে উঠেছিলেন। চার ছক্কা ও ৩টি চার তার হার না মানা ইনিংসের শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। এমন ব্যাটিং তন্ময়ে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিভর্তি সমর্থককে মোহিত করলেও ম্যাচ শেষে তার মুখ মলিন। জয়ের স্বপ্ন ধূসর হয়ে গেলে বীরোচিত ইনিংসের পরও কোনো পেশাদার ক্রিকেটারের মুখে হাসি থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক ঠেকল ড্যারেন সামিকে। কাল রংপুর রাইডার্সের বোলারদের ক্যারিবীয় বিধ্বংসী অলরাউন্ডার যেভাবে তুলোধুনো করলেন এক কথায় অতিমানবীয়। নিজেকে খুঁজে ফেরা সামি রংপুর ম্যাচে হয়ে উঠলেন অতিমাত্রায় ভয়ঙ্কর। মাত্র ১৮ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে শুধু স্বরূপে ফেরেননি তিনি, দলকে দেখিয়েছেন পথের দিশা। শেষ দিকে তার চার ছক্কা ও তিন চারের ওপর দাঁড়িয়ে দেড়শ পাড়ি দেয় রাজশাহী কিংস। প্রতিপক্ষকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে অবদান আছে আকমলের ৩০ বলে ৩৩ রানের অজেয় ইনিংসটারও।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী কিংস : ২০ ওভার, ১৬২/৫ (জুনায়েদ ২৩, সাব্বির ৩১, আকমল ৩৩*, স্যামি ৪৪*; ডসন ২/১৫, সোহাগ ১/৩২, সানি ১/১৭,

মুক্তার ১/৫)।

রংপুর রাইডার্স : ২০ ওভার, ১৫০/৫ (শাহজাদ ১৮, জামশেদ ২৭, মিঠুন ৬৪*, নাইম ১৪*; সামি ১/২৬, নাজমুল ২/১৯, সামিত ১/২৮)

ফল : রাজশাহী কিংস ১২ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: ড্যারেন সামি (রাজশাহী কিংস)

 

"