জেলার ক্রীড়াঙ্গন

সংকট নিয়েই এগুচ্ছে সাতক্ষীরা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

আহসানুর রহমান রাজীব সাতক্ষীরা
ADVERTISEMENT

খেলাধুলার উর্বরভূমি বলা হয় সাতক্ষীরা জেলাকে। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এবং অতীতের চেয়ে এখন অনেক এগিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার ক্রীড়াঙ্গন। সংস্কার করা হয়েছে জেলার পুরাতন স্টেডিয়াম ভবন ও গ্যালারি। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জিমনেসিয়াম তৈরির। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক মানোন্নয়নে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে স্থানীয় ক্লাবগুলো।

সাতক্ষীরার এরিয়ান্স ক্লাবের কর্মকা চলছে শত বছর আগে থেকেই। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বর্তমানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া পিকে ইউনিয়ন ক্লাব ১৯৩৮ সালে, ইউনাইটেড ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। এছাড়া মুন্সিপাড়া যুব সংঘ, বলাকা ক্লাব, সুলতানপুর ক্লাব, বাকাল ক্রীড়া সংঘসহ ৭৬টি ক্লাব জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করছে। এসব ক্লাব থেকেই উঠে এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, রবিউল ইসলাম, সৌম্য সরকার, সাবিনার মতো ক্রীড়াবিদরা।

ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান সাতক্ষীরার গণমুখী সংঘের খেলোয়াড়। সেই মুস্তাফিজ এখন বিশ্বের প্রায় সব ব্যাটসম্যানের আতঙ্কের নাম। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়াম লিগ (আইপিএল), ইংলিশ কাউন্টিসহ বিশ্বক্রিকেটে অবস্থান শক্ত করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ‘কাটার মাস্টার, বিস্ময় বালক’ খেতাব পাওয়া মুস্তাফিজ উজ্জ্বল করছেন সাতক্ষীরা জেলার নাম। আলোকিত করছেন গোটা বিশ্বকে। যে কারণে মুস্তাফিজ এখন আর বাংলাদেশের সম্পদ নন, বিশ্বক্রিকেটেরও বটে।

মুস্তাফিজ ছাড়াও সাতক্ষীরা থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় দলের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, যার আগ্রাসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষ বোলারদের ঘুম হারামে যথেষ্ট। এ যুগলের সঙ্গে সাতক্ষীরার আছেন আরেকজন ক্রিকেটার। তিনি পেসার রবিউল ইসলাম শিবলু।

এই ত্রয়ীর মতো ক্রিকেটার উঠে এসেছেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়িয়ে। জেলার কৃতী সন্তান হিসেবে তকমা পাওয়া এসব ক্রিকেটারের নেপথ্য হিসেবে আছে স্থানীয় ক্লাবগুলো। সাতক্ষীরা জেলা ক্রিকেট দলের কোচ মোফাচ্ছেনুল ইসলাম তপু যথার্থই বললেন, ‘বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে সাতক্ষীরা জেলার সুনাম রয়েছে। জেলায় সীমান্ত ক্রিকেট একাডেমি ও সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিকেট নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমি নামে আরো একটি প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।’

এসব ক্লাবগুলো হয়তো মুস্তাফিজ-সৌম্যের মতো ক্রিকেটার উপহার দিতে পারে দেশকে। যদি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেত জেলার ক্রীড়াঙ্গন। মাঠ সংকট এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবই তাদের পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা ক্রিকেট দলের কোচ তপু এসব সমস্যাকেই দেখছেন বড় করে, ‘জেলা স্টেডিয়াম মাঠ, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কলেজ মাঠ ও পিএন স্কুল মাঠ ছাড়া অন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। মাঠ সংকট থাকায় আগের চেয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জেলা শহরের বাইরেও ভাল খেলার মাঠ নেই। বিগত সময়ে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের পাশে একটি জিমনেসিয়াম থাকলেও এখন সেটি আর নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়মিত সহযোগিতা থাকলে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

শুধু ক্রিকেটে নয় ফুটবলেও এগিয়েছে সাতক্ষীরা। বিশেষ করে মহিলা ফুটবলে। দলটার নেতৃত্বে ‘গোলমেশিন’ সাবিনা খাতুনের নামটাই থাকছে সবার আগে। সাবিনা ছাড়াও জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সুরাইয়া, লিজু, মাছুরা সাতক্ষীরারই মেয়ে।

এসব খেলোয়াড় নিয়ে আশাবাদী জেলা মহিলা ফুটবল দলের কোচ আকবার আলী। বলেছেন, ‘অতীতের চেয়ে জেলার ফুটবল এখন অনেক এগিয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ফুটবলে।’ তবে যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও জেলার নারী ফুটবলে অগ্রগতি প্রত্যাশিতভাবে হচ্ছে না। এর একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আকবর আলী, ‘গ্রাম থেকে অনেক মেয়ে শহরে এসে খেলা শিখতে চায়। কিন্তু আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছে তারা। জেলায় একটি খেলোয়াড় মেস নির্মাণ করা হলে প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়রা জেলা শহরে এসে খেলা শেখার সুযোগ পাবে।’ সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি শুধু ক্রিকেট-ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। এর বাইরেও তারা যে কতদূর এগিয়েছে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ‘শুধু ক্রিকেট, ফুটবলে নয়; হকি, টেবিল টেনিস, ভলিবল, ক্যারাম, সাঁতারে চ্যাম্পিয়নের কৃতিত্ব রয়েছে সাতক্ষীরার খেলোয়াড়দের।’ নিজাম উদ্দিন আলো বলেছেন, ‘ফিফার রেফারি তৈয়ব হাসান বিশ্ব দরবারে সাতক্ষীরাকে উপস্থাপন করেছেন।’

"