মাঠে সন্তান প্রসব

ডাক্তার ও নার্সকে তলব হাইকোর্টের

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে চিকিৎসাসেবা না দেওয়া এবং ওই নারীর মাঠে সন্তান প্রসবের পর নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগের ব্যাখ্যা শুনতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৪ ডিসেম্বর দুজনকে আদালতে হাজির হতে হবে। পাশাপাশি বগুড়া জেলা প্রশাসককে ঘটনাটি তদন্ত করে একই দিন প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে নাÑজানতে চেয়ে রুলও জারি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। স্বাস্থ্যসচিব, বগুড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, শেরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘তাড়িয়ে দিল নার্স, মাঠে প্রসব : নবজাতকের মৃত্যু’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী শামীম সরদার। এরপর আদালত এ আদেশ দেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রসব বেদনায় ছটফট করা মাজেদা বেগমকে রাত ১১টার দিকে নেওয়া হয়েছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভর্তিও করা হয়েছিল।

এক ঘণ্টা পর প্রসব কক্ষে নেওয়ার কথা থাকলেও সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানী মাজেদাকে পাশের মডার্ন ক্লিনিকে নিয়ে ডা. রাফসান জাহান রিম্মীর কাছে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। মাজেদাকে কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে তিনি ঘুমাতে চলে যান।

কিন্তু নগদ টাকা না থাকায় পরে নার্সকে ডেকে তোলেন মাজেদার স্বজনরা। তারা মাজেদাকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসার অনুরোধ জানান।

রাত পৌনে ১টায় ইনডোর বিভাগের আয়া পারভীন বিবি যন্ত্রণাকাতর মাজেদাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। তখন বাইরে নিতে গেলে গেটের কাছে চিৎকার দিয়ে পড়ে যান মাজেদা। অন্ধকার খোলা মাঠে নারকেল গাছের তলায় বালু মাটির ওপর সন্তান প্রসব করেন তিনি।

মাজেদার আর্তচিৎকার শুনে হাসপাতাল রোডের নৈশপ্রহরী ফজলু মিয়া ও পথচারী রিন্টু এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন নার্স সুষমা ও হাসপাতালের নৈশপ্রহরী কাজলকে।

পরে ডাক্তার পিয়াল ও নার্স সুষমা এসে বালু মাটিতে পড়ে থাকা শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

"