ফিরে আসে বিজয়

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

আজ ২ ডিসেম্বর। একাত্তরের এদিনে মুক্তির সংগ্রামে উত্তাল ছিল বাংলার মাটি। সম্মুখ যুদ্ধের গতি বাড়ে। পাকিস্তান বাহিনীদের পরাজিত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলার দামাল ছেলেরা। কোণঠাসা হতে থাকে শত্রুরা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোয় যুদ্ধ তীব্র রূপ নিলে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী।

রাজধানী ঢাকাকে দখলমুক্ত করতে মূলত আজ থেকেই শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাকা অভিমুখে যাত্রা। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েক জায়গায় সম্মুখ যুদ্ধও করতে হয় তাদের। যুদ্ধ হয় নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের পথে পথে। বিশেষ করে আখাউড়া রেলস্টেশনের সম্মুখ যুদ্ধ ছিল উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের বোমায় বিধ্বস্ত হয় ঢাকার রামপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের পাঁচটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও দুটি পেট্রলপাম্প। মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সম্মুখ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ঢাকার আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী।

একাত্তরের এই দিনে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বেশ কয়েক এলাকায় গণহত্যা চালায় পাক বাহিনী। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ে পিছু হটতে থাকে পাকিস্তানি সেনারা। অবরুদ্ধ বাংলাদেশের ভেতর সৃষ্টি হয় অনেক মুক্তাঞ্চলের। পাকিস্তানি বাহিনী পঞ্চগড়ে বৃত্তাকার যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিফেন্স লাইন তৈরি করেছিল, একাত্তরের এদিনেই মুজিব বাহিনীর যোদ্ধারা ভারতের মিত্র বাহিনীর সহায়তায় গভীর রাতে আক্রমণ চালালে তারা পঞ্চগড় ছেড়ে চলে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যেতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে।

চট্টগ্রামে মুক্তি বাহিনী উত্তরে ফটিকছড়ি ও রাউজান থানা এবং দক্ষিণে আনোয়ারার অধিকাংশ স্থান তাদের দখলে আনতে সক্ষম হয়। ঘোড়াশালে পাক বাহিনীর অবস্থানের ওপর চারদিক থেকে আক্রমণ করে হত্যা করে ২৭ হানাদারকে। উদ্ধার হয় বেশ কিছু গোলাবারুদ। আখাউড়া, পঞ্চগড়, ভুরুঙ্গামারী, কমলাপুর, বনতারা, শমশেরনগর ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সংঘর্ষে পিছু হটে হানাদার বাহিনী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেখানে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের এক কর্মিসভায় বলেন, সময় বদলেছে, তিন-চার হাজার মাইল দূর থেকে বর্ণের প্রাধান্য দিয়ে তাদের (পাকিস্তান) ইচ্ছামতো হুকুমনামা জানাবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। আজ আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য দেশের সর্বোচ্চ প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করব, ওই সব বৃহৎ দেশগুলোর ইচ্ছানুযায়ী নয়। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ডিসেম্বরের প্রথম দিনে ঢাবিতে বিজয় শোভাযাত্রা : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয়ের মাস ডিসম্বরের প্রথম দিন উপলক্ষে বিজয় শোভাযাত্রা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালিটি অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে শুরু করে টিএসসি ঘুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‌্যালি শেষে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। আর এখানেই পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছিলাম। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের দেশে স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হতে পারে না। দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আমাদের থাকতে পারে না। পাকিস্তান আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ভবিষ্যতেও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারাই বিতর্কিত মন্তব্য করবে তাদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না।’ র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

"