নেত্রকোনা আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান খানের বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় আবেদন করেছেন স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা’ মতিউরের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন সহযোগীসহ অন্তত দুজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বলেছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করবে। অন্যদিকে মতিউর রহমান খান কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মো. শামছুজ্জোহা গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু?ুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এ অভিযোগ জমা দেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির একটি সভার ‘প্রতিবেদনের অনুলিপি’ দেন, যেখানে সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতিউর রহমান খানের নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রাইবু?্যনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, ‘মতিউর রহমান খান নামে নেত্রকোনার একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা সেটাকে নথিভুক্ত করেছি।’ এই মতিউরের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের কোনো কিছুই আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখিনি। তার পরিচয়ও জানি না। আইন অনুসারে আমরা ধারাবাহিকভাবে এটা নিয়ে কাজ করব।’

অন?্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবেÑসেটা এখনও জানি না। আমাদের কাছে এ ধরনের প্রায় ৬০০ অভিযোগ রয়েছে। আমাদের লোকবলও সীমিত। সীমিত লোকবল নিয়ে কাজ করছি। তাই এখনই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বলা যাচ্ছে না।’

অভিযোগ অস্বীকার করে মতিউর রহমান খান বলেন, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। একাত্তরে তিনি মুক্তারপাড়া এলাকায় শ্বশুরের বাসায় পাকিস্তানি হানাদারদের নজরবন্দি ছিলেন। তার জামিনদার ছিলেন নেত্রকোনা কলেজের অধ্যক্ষ। এ বক্তব্যের সমর্থনে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেসব তিনি হাজির করবেন।

মতিউরের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার কাছে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা শামছুজ্জোহার অভিযোগে বলা হয়, ‘একাত্তরে দুবার তার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমবার ২০ এপ্রিল রাজাকার সৈয়দ হাফিজ উদ্দিন, সৈয়দ সোনা মিয়ার নেতৃত্বে ভোলা মিয়া, আল বদর শহীদুল্লাহ পিন্টু ও আবদুর রহিম ফরাজী আক্রমণে অংশ নেন। তারা এসে বাড়ির মালামাল ?লুট করে নিয়ে যায়। ‘দ্বিতীয়বার পিন্টু-ফরাজী-ভোলা এলেও নেতৃত্বে ছিলেন আলবদর নেতা মতিউর রহমান খান। ওই দিন রাজাকার-আলবদররা আমার বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে এসব ঘটনা জানতে পেরেছেন জানিয়ে শামছুজ্জোহা বলেন, ‘আমি বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ওই রাজাকার-আলবদরদের বিচার চাই।’

অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট নেত্রকোনা সদরের কুরপাড়ের মুকতুল হোসেনের বাড়িতে আক্রমণ করে তাকে আটক করে আনসার ব্যারাকে বসানো হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে সারা রাত পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়। ‘আলবদর মতিউর রহমান খানের নেতৃত্বে পিন্টু-ফরাজী-ভোলা ওই আক্রমণে অংশ নেয়। তারা পরে মুকতুল হোসেনকে মগড়া নদীর তীরে নিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। তার লাশ আর পাওয়া যায়নি। ‘বাড়ি থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার মানুষ ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। আমি সোর্সের মাধ্যমে উল্লিখিত ঘটনা জানতে পারি। পরে এলাকার লোকজনের কাছে ঘটনা জানতে পারি,’ অভিযোগে লিখেছেন শামছুজ্জোহা।

তিনি বলেন, একাত্তরে নেত্রকোনা কৃষি অফিসের পিয়ন মুকতুল আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। রাজাকার ও আলবদরদের তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন তিনি। মতিউরের বিরুদ্ধে অপর অভিযোগ, দুর্গাপুর থানার বিরিশিরি নোয়াপাড়ার অধ্যাপক আরজ আলীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট আনুমানিক বেলা ১১টায় অধ্যাপক আরজ আলীকে নেত্রকোনা কলেজ থেকে ধরে নেত্রকোনা ভোকেশনাল আর্মি ক্যাম্পে নেওয়া হয়। ‘আলবদর মতিউর রহমান খান, অধ্যাপক মুন্সী আবদুল জলিল, পিন্টু ও ফরাজী এতে অংশ নেয়। পরদিন আরজ আলীকে হত্যা করে আসামিরা লাশ সোমেশ্বরী নদীতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনা নুরুজ্জামান, খোরশেদ আলী, আবদুল হামিদসহ অনেকে প্রত্যক্ষ করে।’

"