রোহিঙ্গা নির্যাতন

রাজপথে নামছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান দমননীতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিতব্য এক মিছিলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের আসিয়ান সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। বুধবার মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড মালায়াস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের বার্ষিক সভায় যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী খাইরি জামালউদ্দিন বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানে মিয়ানমারের সদস্যপদ অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা উচিত। জাতিসংঘ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডেরও অভিযোগ তোলা হয়। এবারের সংঘর্ষে রাখাইন রাজ্যের মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন বলে জানিয়েছে তারা। জাতিসংঘের হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত ঘরহারা হয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে তাদের।

স্ট্রেইটস টাইমসের খবরে বলা হয়, যে শিশু সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে, যে কখনো কোনো দিন সংঘর্ষে জড়ায়নি, তারও রেহাই মিলছে না। নির্বিচারি গুলি-মর্টার সেল আর ফাইটার জেটের হুঙ্কার। রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর সংঘটিত ওই নিধনযজ্ঞের (এথনিক ক্লিনজিং) প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ ডিসেম্বর সমাবেশটির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি জানিয়েছেন, সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকারি উচ্চপদস্থ অন্য কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নেতৃত্বে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া অন্যান্য নেতাও সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।’

মিয়ানমারের আসিয়ান সদস্যপদ বাতিলের দাবি : এদিকে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী খাইরি জামালউদ্দিন আরো বলেন, ‘আসিয়ানে মিয়ানমারের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করার জন্য এ জোটের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি।’ জামালউদ্দিন দাবি করেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। কিন্তু সেই নীতি বাতিল হয়ে যায়, যখন কোনো সদস্য রাষ্ট্র ব্যাপক মাত্রায় জাতিগত নির্মূলীকরণে জড়িত হয়।’

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ঘটনায় বর্তমানে মিয়ানমার সফরে রয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাবিষয়ক কমিশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশটিতে এটা তার দ্বিতীয় সফর। এর আগে অব্যাহত রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে দেশটি সফর করেন কফি আনান। গত ১৬ নভেম্বর এক বিবৃতিতে কফি আনান রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানান।

উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপন্নতায় যে দেশগুলো সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছে মালয়েশিয়া তাদের অন্যতম। মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ওই সোসাইটি গঠন করেছে মালয়েশিয়া সরকার।

"