পাঁচ দফা আদায়ের ঘোষণা টিভি কলাকুশলীদের

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
ADVERTISEMENT

যেকোনো মূল্যে পাঁচ দফা দাবি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন ফেডারেশন অব টেলিভিশনস প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) নেতারা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল বুধবার টেলিভিশন শিল্পী-কলাকুশলীদের সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এ সমাবেশে নিজেদের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। টিভি কলাকুশলীদের পাশাপাশি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কয়েকটি টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি চ্যানেলে বাংলা ডাবকৃত বিদেশি অনুষ্ঠান বন্ধ করা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ-ক্রয় ও প্রচারের ক্ষেত্রে এজেন্সির হস্তক্ষেপ ব্যতীত চ্যানেলের অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা, টেলিভিশন শিল্পের সর্বক্ষেত্রে এআইটির ন্যূনতম ও যৌক্তিক হার পুনর্নির্ধারণ করাসহ টেলিভিশন শিল্পে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবৈধভাবে কাজ বন্ধ, ডাউনলিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টা থেকে সমাবেশস্থলে একের পর এক ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে অংশ নেয় টিভি নাটকের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর জাতীয় সংগীত ও শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত। তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো মূল্যে পাঁচ দফা দাবি আদায় করব। এটা আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাথমিক ধাপ। এরপর দাবি না মানলে আগামীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ নাট্যাভিনেতা আবুল হায়াত তার বক্তব্যে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের হাত থেকে নাটককে বাঁচাতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন আমরা সজাগ না হলে টিভি নাটকের ভবিষ্যৎ বলে কিছু থাকবে না। আমি এই সমাবেশকে সমর্থন জানাই।’

শিল্পীদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। তার পরও এখানে ডাকা হয়েছে বলে এসেছি। আজকে আমাদের চলচ্চিত্রের মতো নাটকেও নাজুক অবস্থা। এর জন্য দায়ী আমাদের চ্যানেলগুলো। প্রতিটি চ্যানেলেই অত্যাধিক স্বজনপ্রীতি দেখা যায়।’

তিনি তথ্যমন্ত্রীর অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাহেব শুধুই আশ্বাস দেন, কাজ করেন না। তার কাছে কোনো দাবিদাওয়া নিয়ে গেলে তিনি হাসিমুখে সাদরে গ্রহণ করেন। সেটা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করেন না।’

এফটিপিওর আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে নিয়ে যেকোনো চ্যানেল সাড়া দিতে পারে। যদি তারা আসে তবে তাদের স্বাগত জানাব আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা দিন শেষে প্রায় সব চ্যানেলই যোগ দেবে। যারা না আসবে, তাদের জন্য আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমাদের। আজ মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে দাবি আদায়ের জন্য। দাবি আদায় হবেই।’

এর পরপরই এফটিপিওর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরটিভি। চ্যানেলটির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রকিব একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আরটিভি নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো বিদেশি ডাবিং নাটক প্রচার করবে না। আমরা পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে একমত।’

একইভাবে সংহতি প্রকাশ করেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার চ্যানেলে সব রকমের বিদেশি নাটক ও বিজ্ঞাপন বন্ধ। আমার কাছে দেশ আগে, শিল্পী আগে। আপনাদের সঙ্গে আমি আছি। যে একতা নিয়ে এখানে এসেছেন, সেটি ধরে রাখবেন।’

সমাবেশে সস্ত্রীক উপস্থিত হন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সমাবেশ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি আসলে এ সমাবেশ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই। আগে বুঝি তারপর মন্তব্য করব।’

সমাবেশে উপস্থিন হন সৈয়দ হাসান ইমাম, আনিসুর রহমান মিলন, চঞ্চল চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, গাজী রাকায়েত, বন্যা মীর্জা, শশী, হিল্লোল, নওশীন, মিশু সাব্বির, সিমিত রায় অন্তর, সালাউদ্দিন লাভলুসহ তিন শতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী।

"