জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত ও বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। রিটে জেলা পরিষদ আইনের তিনটি ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে জেলা পরিষদ আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছে সেটি সঠিক হয়নিÑএমন যুক্তি দেখানো হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) বিবাদী করা হয়েছে। ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, সংবিধানের ১১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে সরাসরি জনগণের ভোটে। কিন্তু জেলা পরিষদ আইনের ৪, ৫ ও ১৭ নম্বর ধারার আলোকে নির্বাচন করা হচ্ছে নির্বাচকম-লীর মাধ্যমে। এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই তিনটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

গত ২০ নভেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ ডিসেম্বর পার্বত্য তিন জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। স্থানীয় সরকারের অন্যান?্য স্তরে দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম?্যান বা মেয়র নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদে তা হচ্ছে না। ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে তিনি নিজে একজন জনপ্রতিনিধি হলে পদে থেকে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল; পড়ে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে। এরপর ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের মেয়াদ শেষেই ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে।

"