ফুলবাড়িয়ায় ১৪৪ ধারা তদন্ত কমিটি, মামলা

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় জোরবাড়িয়া থেকে ভালুকজান রাস্তা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এসব স্থানে যে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার পর পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করল স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ফুলবাড়িয়ার ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ গত রোববার রাতে একটি মামলা করেছে। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রিফাত বিন রাজীব জানান, গতকাল সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পৌর শহরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে, শিক্ষক নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল হুদাকে তিন সদস্যের ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। মাউশির একজন উপ-পরিচালক ও মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক এ কমিটিতে আছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মামলা-মোকদ্দমার যে বিষয় সেটা তো সংশ্লিষ্ট অথরিটি করবেন। যেহেতু আমাদের শিক্ষা পরিবারে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটনাটা ঘটেছে, শিক্ষক মারা গেছেনÑএ বিষয় সম্পর্কে আমাদের সঠিক জিনিস জানার ও করার অনেক কিছুই আছে। সেজন্য আমরা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করেছি।’

‘তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ইতোমধ্যে সেখানে (ময়মনসিংহ) চলে গেছেন, প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা খবর রাখছি, চেষ্টা করছি, যোগাযোগ রাখছি, আমরা সমাধানের জন্য চেষ্টা করব।’ নাহিদ বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে, শিক্ষক সেখানে মারা গেছেন এবং সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।’ কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে সরকারি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সেই সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

অন্যদিকে সংঘর্ষের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দায়ী করেছে পুলিশ। ফুলবাড়িয়া থানার এসআই রফিক পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ এনে গত রোববার রাতে একটি মামলাও করেছেন। ওসি রিফাত জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০-৪০০ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে হতাহতের ঘটনায় কোনো মামলা এখনো হয়নি।

ফুলবাড়িয়া কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে গত রোববার পুলিশের সংঘর্ষ বাধলে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও পথচারী সফর আলীর (৭০) মৃত্যু হয়; আহত হন আরো ২০ জন। ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ দাবি আদায় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম আবুল হাশেমের অভিযোগ, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের হামলায় নিহত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মরদেহ পুলিশি পাহারায় দাফন করা হয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় তার গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কাদিরপুর গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। জানাজা এবং দাফনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিবার ও এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। এলাকার লোকজন জানান, শিক্ষক নিহতের ঘটনার পর রোববার রাত থেকে তার গ্রামের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানাজা ও দাফন পর্যন্ত পুলিশ অবস্থান করে।

এদিকে, শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তার স্ত্রী ও একই কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সাইফুন নাহার শয্যায় অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। পরিবারে চলছিল শোকের মাতম। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত¦না জানাতে সেখানে যান নান্দাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মালেক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহানুর আলম, নান্দাইল পৌর মেয়র রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আক্তারুজ্জামান ও স্থানীয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খলিলুর রহমান হাওলাদার প্রমুখ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সান্ত¦Íনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত শিক্ষকের মেয়ে সাবিহা আজাদ। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিনা দোষে পুলিশ আব্বুকে কলেজের ভেতর পিটিয়ে মেরেছে। এখন আর সান্ত¦Íনা দিয়ে কী হবে আর মামলা করলেই কী লাভ হবে। তার কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কলেজ জাতীয়করণ আন্দোলনের সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক এস এম আবুল হাশেম বলেন, পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখায় যথাসময়ে তার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা তো কোনো সন্ত্রাসী ছিলাম না।

"