প্রধানমন্ত্রীর বিমানে নাট-বোল্ট ঢিলা থাকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে নাট-বোল্ট ডিলা-সংক্রান্ত ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে চার ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের বলাকা অফিসে গতকাল দিনভর এক ধরনের ঘোমট অবস্থা বিরাজ করে। ঘটনা তদন্তে মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ বিমানও সিভিল এভিয়েশন কতৃপক্ষ পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত রির্পোট জমা দিতে বলা হয় প্রতিটি কমিটিকে। তবে বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, নাট-বোল্ট ঢিলা হওয়ার কারণে উড়োজাহাজের এ ত্রুটি দেখা দেয়।

গত রোববার হাঙ্গেরি সফরে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বোয়িং ৭৭৭ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দিনভর আলোচনায় ছিল বিমান মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার চিত্র। এ ঘটনায় গতকাল সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ এ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ সময় বিমানমন্ত্রী বলেন, একটি ইঞ্জিনে ‘জ্বালানির চাপ কমে যাওয়ায়’ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, নিয়ারেস্ট (সবচেয়ে কাছের) এয়ারপোর্টে ল্যান্ড (অবতরণ) করতে হয়। সে হিসেবে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদ ল্যান্ড করেছিল প্লেনটি। সেখানেই আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা প্লেনটি সারিয়ে চার ঘণ্টা পর আবার ফ্লাই করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেই ফ্লাইটেই রাত ১১টা ৫ মিনিটে বুদাপেস্টে পৌঁছান। ঘটনার জন্য কারো অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনেই বিমানের এক কর্মকর্তাকে ফোন করে ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পরিচালককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় যে তদন্ত কমিটি করেছে তার নেতৃত্বে আছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও পর্যটন) স্বপন কুমার সরকার। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চার সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে আছেন চিফ টেকনিক্যাল অফিসার ফজল মাহমুদ চৌধুরী। এই কমিটিতে সদস?্য হিসেবে আছেন ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মো. হানিফ এবং ইঞ্জিনিয়ার নিরঞ্জন রায়। কমিটিকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিমান বহরে ‘রাঙা প্রভাত’ নাম পাওয়া বোয়িং উড়োজাহাজটিতে প্রধানমন্ত্রী, তার সফরসঙ্গীসহ ৯৯ জন যাত্রী এবং ২৯ জন ক্রূ ছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমানের বাঁ-দিকের ইঞ্জিনের ‘ইঞ্জিন অয়েল’ কমে যাওয়ায় ওই ঘটনা ঘটে। আমাদের পাইলটরা বেশ কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি ধরতে পারেন। ককপিটের মনিটরে তা ইনডিকেট করছিল। তখনই তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের জানান। ওই সময় বিমান ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ হাজার ফুট ওপরে ছিল। ওই সময় বাম ইঞ্জিনের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। তুর্কমেনিস্তানে অবতরণের ১২ থেকে ১৫ মিনিট আগে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমি জানতে পেরেছি, কেবল কয়েকটা নাট-বোল্ট টাইট দেওয়াতেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উড়োজাহাজটি আবার ফ্লাই করার আগে দুবার ইঞ্জিনের ট্রায়াল দেওয়া হয়।

এই গোলযোগের জন্য রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলাকে দায়ী করে তিনি বলেন, যদি কোনো লাইন বা পাইপ ফেটে যেত তাহলে তা সারাতে অনেক সময় লাগত। ঢাকা বা আশপাশের কোনো গন্তব্য থেকে তা নিয়ে যেতে হতো। কারণ এসব যন্ত্র ভিভিআইপি ফ্লাইটে বহন করা হয় না। সরকার প্রধানের ফ্লাইটে ইঞ্জিনের নাট-বোল্ট কীভাবে ঢিলা থাকে, সে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিমানের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ড. জানোস এডারের আমন্ত্রণে বুদাপেস্ট পানি শীর্ষ সম্মেলন-২০১৬-তে অংশ নিতে চার দিনের সফরে রোববার ঢাকা ত্যাগ করেন। সকাল ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান।

"