ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘাত

শিক্ষকের ওপর চড়াও ছাত্রলীগ

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

রাজশাহী অফিস
ADVERTISEMENT

রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মধ্যেকার সংঘাত শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদের ওপর হামলায় গড়িয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষসহ অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষক ছাত্রলীগকর্মীদের হামলার শিকার হন। অবশ্য অধ্যক্ষ তার ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। এ সময় কয়েক দফা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে কলেজে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হামলার প্রতিবাদে ওই দিন সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় একটি শোকর‌্যালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ’৯০-এর স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহীদ জিয়াবুলের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই শোকর‌্যালির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন উস্কানিমূলক সেøাগান দিচ্ছিলেন। এই সেøাগান দেওয়াকে কেন্দ্র দুই সংগঠনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কলেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আবদুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটাতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবদুল্লাহ মারের হাত থেকে বাঁচতে ফুলার ভবনের দর্শন বিভাগে গিয়ে আশ্রয় নেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা সেখানেও ঢুকে তাকে পেটাতে থাকে। তারা দর্শনে বিভাগে ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান। হামলায় তার কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরে পুলিশ আহত শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, হামলার ঘটনা শুনে কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. হবিবুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের থামাতে যান। তখন অধ্যক্ষের সঙ্গেও বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাগ্বিতন্ডার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা অধ্যক্ষের ওপরও হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে রক্ষা করেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অধ্যক্ষের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু বেলা পৌনে একটার দিকে ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাঈমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগকর্মীরা কলেজ হোস্টেলের গেট দিয়ে সেøাগান দিতে দিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের পাশের টেন্টে লোহার হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালায়। তারা শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ছাত্রদলের টেন্টে হাতুড়ি দিয়ে আবার ভাঙচুর চালায়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা ফুলের টবগুলোও ভাঙচুর করে।

ভাঙচুরের পর এক তাৎক্ষণিক সমাবেশে ছাত্রলীগের কলেজ আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সিয়াম বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেনÑ প্রত্যেক বছর ছাত্রদলের কর্মীরা শহীদ জিয়াবুলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এবারো তারা একই চেষ্টা করেছিল। তারা অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটা আর বরদাশত করা হবে না।

কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমানকে তার ওপর কোনো হামলা হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, তার সঙ্গে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাঈমের নেতৃত্বে বহিরাগত কর্মী এনে এই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

"