ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে মসজিদে চিঠি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি মসজিদে মুসলিম হত্যার হুমকি দিয়ে বেনামি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুসলমানদের বিতাড়ন করা হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের এক নেতা গত শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের লস অ্যাঞ্জেলেসের নির্বাহী পরিচালক উসাম আইলুস জানান, তিনটি চিঠিই অভিন্ন ছিল এবং সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে সান্তা ক্লারিটার একটি পোস্ট অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে। আইলুস তার লোকদের চিঠির বিষয়টি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কাছে জানাতে বলেছেন।

গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর থেকেই মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। নানা জায়গায় ট্রাম্প-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। দেশটির নাগরিক অধিকার গ্রুপ এটিকে সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন।

আইলুস জানিয়েছেন, সপ্তাহের শুরুতে লংবিচ ইসলামিক সেন্টার, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লেয়ারমন্ট ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে শহরে এভারগ্রিন ইসলামিক সেন্টারে চিঠিগুলো পাঠানো হয়। চিঠির নিচে ‘একটি মহৎ কাজের জন্য আমেরিকানরা’ লিখে বেনামে স্বাক্ষর করা ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধুয়েমুছে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার উজ্জ্বল করে তুলবেন। আর এজন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হবে। চিঠিতে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তোমরা যারা মুসলমান, তাদের উচিত হবে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কেটে পড়া।’

লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের খবরে প্রকাশ, লস অ্যাঞ্জেলসের মসজিদগুলো বুধবার এবং স্যান জোসের মসজিদগুলো বৃহস্পতিবার ওই সব চিঠি পেয়েছে। চিঠিগুলোতে মুসলিমদের ‘শয়তানের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে এবং চিঠির শেষে প্রেরকের স্বাক্ষরে লেখা হয়েছে ‘আমেরিকান ফর অ্যা বেটার ওয়ে’। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘শহরে এসেছে নতুন শেরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি আমেরিকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। আর এ কাজের শুরুটা হচ্ছে মুসলিমদের দিয়ে। হিটলার ইহুদিদের সঙ্গে যা করেছিল তিনি (ট্রাম্প) মুসলিমদের সঙ্গে তা করতে যাচ্ছেন।’

এক বিবৃতিতে সান জোসে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, চিঠি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন এভারগ্রিন ইসলামিক সেন্টার কর্মকর্তাদের গত বৃহস্পতিবার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

"