আইভীর অভিযোগ

শামীম ওসমানের ভূমিকা তবুও অস্পষ্ট

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরও শামীম ওসমানের ভূমিকা এখনও অস্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। একই দলের স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে আইভী বলেন, তিনি এখনও আমার পক্ষে নামেননি। দলের অনেক নেতাকর্মীই নৌকার পক্ষে নামার চিন্তাভাবনা করছেন। কিন্তু শামীম ওসমানের ভয়ে নামতে সংকোচ করছেন। তার পরও নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে আমি জয়ী হব। গতকাল রোববার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নাসিক নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণী এক বৈঠকে আইভী এসব অভিযোগ তোলেন। বৈঠক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বৈঠকে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ওসমান পরিবারের সদস্যরা ছাড়া শামীম ওসমানের লোকেরাও তার পক্ষে কাজ করবেন। তবে কেউ গোপনে, কেউ প্রকাশ্যে থাকবে। শামীম ওসমান তার পক্ষে সক্রিয় হলে ভালো। আর নিস্ক্রিয় থাকলে আরো ভালো।

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে রয়েছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেক ওয়ার্ডে আমি যাব। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাব। দরকার হলে উনার (শামীম ওসমান) কাছেও যাব। কিন্তু উনাকে চালাতে হবে কেন্দ্র থেকে।

বৈঠক সূত্র আরো জানায়, সভায় নারায়ণগঞ্জের সংখ্যলঘু ভোটারদের কাছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে অনুরোধ করেন আইভী। প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকে আইভী তার নির্বাচনি কৌশল জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের। এ সময় তিনি পরামর্শও নেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও সম্পাদক আব্দুর রহমান আইভীর বক্তব্য টুকে রাখেন। সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান নওফেল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে মেয়রপ্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্বাচনি কৌশল জানাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আইভী অভিযোগ করেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ছড়াচ্ছেন, আইভী আওয়ামী লীগের কে? অথচ ২০০১ সালের পর আমি ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আর কে ছিল? আওয়ামী লীগের কর্মকা- নারায়ণগঞ্জে আপনারা আমি ছাড়া আর কাকে দিয়ে করিয়েছেন? পারিবারিক ঐতিহ্যের কথাও যদি ওঠে, আমি বলব, তার বাবার অবদানের চেয়ে আমার বাবার অবদান কম কি ছিল? তার বাবা দল করে টাকা কামাই করেছেন। আর আমার বাবা দল করে অর্থ-সম্পদ খুঁইয়েছেন। এছাড়া আমি যখন লেখাপড়া করতে বিদেশে যাই, তখন নেত্রীর (শেখ হাসিনা) অনুমতি নিয়েই যাই। নারায়ণগঞ্জে যখন তার (শামীম ওসমান) হয়ে দল করেছি, তখন আমি আওয়ামী লীগ করতাম। আর ২০১১ সালে যখন মেয়রপ্রার্থী হয়েছি, তখনই এই আমি আর আওয়ামী লীগের কেউ নই। এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

আইভী আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়েছে। এগুলো কারা করছেন, নাটের গুরু কে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাই এদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। গত নির্বাচনে দলের যাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, এবারও তাদের সে দায়িত্ব দেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন আইভী।

আইভী সাখাওয়াতসহ ৮ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের বাছাই পর্বে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মনোনয়নপত্রসহ আরো ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কথিত বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মেয়রপ্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই শেষ করা হয়। মেয়র পদে বৈধ অন্য ছয়জন প্রার্থী হচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, জাসদের মোসলেম উদ্দিন, এলডিপির কামাল প্রধান, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস ও জাপা নেতা মেজবাহ উদ্দিন ভুলু।

রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, নয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ থেকে ২৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে নয়জন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে শনিবার প্রথম দিনে যাচাই-বাছাই শেষে ১০ কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়।

গতকাল রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আপনারা সবাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ এই তিনটি শব্দের ব্যাপক ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কেউ কি জানেন এই তিনটি শব্দের মানে কি? এ সময় সব প্রার্থীই চুপ থাকে। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হলে তখন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা আমার প্রতি আস্থা রাখুন। নজিরবিহীন নির্বাচন সৃষ্টি করতে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন।

এ সময় বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য গ্রাউন্ড ফিল্ড চাই। নারায়ণগঞ্জে অনেক অস্ত্র রয়েছে যেগুলো এখনো উদ্ধার করা হয়নি। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য এই অস্ত্রগুলোর ব্যবহার হতে পারে। এ ছাড়া অনেক অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই। এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী উপস্থিত ছিলেন না।

"