ফুলবাড়ীয়া কলেজ নিয়ে আন্দোলন

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষকসহ নিহত ২

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজ সরকারীকরণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যজন স্থানীয় মাছবিক্রেতা সফর আলী। গতকাল রোববার ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদরের কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজীব দাবি করেছেন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা যেতে পারেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুলবাড়ীয়া কলেজে সরকারীকরণের দাবিতে দুপুরে পৌর এলাকায় আন্দোলনকারীরা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোনকারীদের ওপর হামলা করে পুলিশ। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন পথচারী মাছবিক্রেতা সফর আলী এবং সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সফর আলী মারা যান। অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ফুলবাড়ীয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক ঈমাম হোসেন। কলেজশিক্ষক আরো জানান, পুলিশের লাঠিপেটায় শিক্ষক হেলাল উদ্দিন, উপেন্দ্র চন্দ্র দাস, মুজিবুল হক, মুজিবুর রহমানসহ শিক্ষার্থীরা আহত হন।

এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা উপজেলা সদরের সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি রিফাত খান রাজীব। ঘটনায় নিহত সফর আলী সম্পর্কে ওসি রিফাত খান বলেন, ‘কলেজে যখন আন্দোলন চলছিল, তখন একটা পর্যায়ে আমরা উপজেলার দিকে ফেরত আসতে থাকি। আসার পথে উপজেলা পরিষদের দিকে একটা অসুস্থ মানুষ শুয়ে আছে। গামছা পরা। কিছু মানুষ তাকে দেখছে। তখন সাংবাদিকরাও ছিল। তখন বললাম, উনি অসুস্থ তাকে হাসপাতালে পাঠান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে পাঠান। কিছুক্ষণ পর ভ্যানওয়ালা ফেরত আসেন, জানান যে তিনি পথেই মারা গেছেন। এ কারণে আর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্স ডাকি। কারণ তিনি তো মারা নাও যেতে পারেন। পরে আমরাই তাকে হাসপাতালে পাঠাই। পরে হাসপাতাল সূত্রে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন।

"