ইসি গঠনে নতুন আইন চাইলেন এরশাদ

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠনে নতুন আইন করার দাবি জানিয়েছেন সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিধান রাখতে হবে।’ গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব করেন তিনি। এ সময় তিনি ইসি গঠনে ৫টি প্রস্তাব করেন। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে বিএনপি ইসি গঠনে প্রস্তাব দিলেও আইন করার বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ইসি গঠনে শক্তিশালী আইন করার দাবি জানান। গত শুক্রবার একটি সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জানান, ‘শক্তিশালী ইসির চেয়ে নিরপেক্ষ সরকার অনেক কার্যকর।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দেশের সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিধান যুক্ত করতে হবে। তাহলে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সংসদেই আইন পাস করে নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন করার প্রস্তাবও দেন এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির দেওয়া প্রস্তাবনা অনুসরণ করা হলে দেশে বিতর্কমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার লিখিত বক্তব্যে ভারত, আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি তুলে ধরেন।

এরশাদ বলেন, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি তার নিজস্ব সংস্কার পদ্ধতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক সমস্যা দূর হবে এবং নির্বাচন নিয়ে আর কোনো বিতর্কও হবে না ।

উল্লেখ্য, সংবিধানেও ইসি গঠনে আইন করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। যদিও কোনো সরকারই এ নিয়ে আইন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

প্রস্তাবে এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় থাকতে হবে। বর্তমান সংসদেই এ আইন পাস করতে হবে।’ উল্লেখ্য, এ বিষয়টি বিএনপির প্রস্তাবে ছিল। ইসির জন্য পৃথক সচিবালয় করার প্রস্তাব দেন খালেদা জিয়া। নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এরশাদের প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা না থাকা, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ ও চারিত্রিক স্বচ্ছতা।’

খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে ছিল, ‘সর্বজনশ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, সব বিচারে দল-নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব, যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো লাভজনক পদে নিয়োজিত নেই বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য বি এম কাদের, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়া উদ্দিন বাবলু প্রমুখ।

 

"