‘শিশুমেলা’ বন্ধ করে দিল সিটি করপোরেশন

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইজারামূল্য পরিশোধ না করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া রাজধানীর শ্যামলীর ‘শিশুমেলা’ বিনোদনকেন্দ্র দখলে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের উপস্থিতিতে গতকাল শনিবার সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ার বিনোদনকেন্দ্রটির দুটি ফটকে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেন। তবে শিশুদের জন্য এ কেন্দ্রটি শিগগিরই আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর সিটি করপোরেশন জানায়, এক দশমিক ৪০ একর জমিতে এ শিশুপার্কটি গড়ে উঠেছে। ১৯৮৫ সালে এটি পরিচালনার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। পরে নিজ খরচে আধুনিক খেলার যন্ত্রাংশ স্থাপন করতে ২০০২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পার্কটি ‘মেসার্স ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয় সিটি করপোরেশন।

তিন বছরের ইজারামূল্য ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৬ টাকা ৫ পয়সা। এ চুক্তি আর নবায়ন করা হয়নি। এ পার্কটি ছাড়াও গুলশানের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কটিও একই প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়েছিল সিটি করপোরেশন।

২০০৫ সালে ইজারা চুক্তি বাতিল করে শিশুপার্কটিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। ওই বছরের একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় উচ্ছেদ চালানো সম্ভব হয়নি। পরে রিটের নিষ্পত্তি হলেও ইজারাদার ২০০৯ সালে আরেকটি রিট করে। এটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পার্কটির পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আদালতের কোনো নিষোধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ নেই।

মেয়র আনিসুল হক বলেন, শহরের মাঝখানে এই জায়গাটি আমি বলব গত ২০০২ সাল থেকে দখল করে রাখা হয়েছে, প্রতি তিন বছরে মাত্র এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। তা-ও গত ২০০২ সাল থেকে একটি টাকাও সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়নি।

গরিবের সম্পত্তি, আমাদের সম্পত্তি, সিটি করপোরেশনের সম্পত্তিÑ এত বড় একটি পার্ক বছরের পর বছর তারা দখল করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, (পার্ক পরিচালনা কর্তৃপক্ষ) মামলার পর মামলা করেছেন। আমরা কেসে জয়ী হয়েছি এবং আমরা আজকে আমাদের, শিশুদের এবং সাধারণ নাগরিকদের এই পার্ক পুনরুদ্ধার করলাম। এটা আর কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না।

অবৈধভাবে দখলমুক্ত করতে এত দিন সময় লাগল কেনÑ এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দেড় বছর। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছি।

কিন্তু এ দেশে অনেক দখলদার আছেন যারা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক প্রতাপশালী। আমরা বলি, তারা এক ধরনের চোর। তারা সাধারণ মানুষের প্রপার্টি, সাধারণ মানুষের জমি চুরি করেন। ভয়ে হয়তো সাধারণ মানুষ কিছু বলতে পারে না। কিন্তু বর্তমান সরকার খুবই দৃঢ় এবং স্পষ্ট, সাধারণ মানুষের জমি আর দখল করে রাখা যাবে না।

সিলগালা করা হলেও ‘যত দ্রুত সম্ভব’ পার্কটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া পার্কের ভেতরের দোকান মালিকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকেও নজর রাখা হবে, বলেন মেয়র।

এদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর সেখানে আসেন ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম মুস্তাফিজুর রহমান।

পার্কটি সিটি করপোরেশনের দখলে না নেওয়ার ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা আছে দাবি করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানায়নি। আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি। সে রিট এখন পেন্ডিং। এটাকে উচ্ছেদ করা বা আমরা বেআইনি এটা কেউ বলতে পারে না। রিটের কাগজপত্র আমাদের প্রধান কার্যালয়ে আছে। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

"