এমপি-ইউএনওর বিরুদ্ধে সাঁওতালদের মামলা

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও হত্যাসহ কয়েকটি অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ শ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছে সাঁওতালরা। গতকাল শনিবার গোবিন্দগঞ্জ থানায় এ আবেদন জমা দেন গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালপল্লী হরিণমারী নতুনপল্লী (ইক্ষু খামারের ভেতরে) গ্রামের মহলে হেমরমের ছেলে থোমাস হেমরম।

তবে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আগে আদালতের নির্দেশনা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় থানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, নিজেরা করি ও এএলআরডির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল থানায় উপস্থিত ছিল। এর আগে এ ঘটনায় গত ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মরমুর ছেলে স্বপন মরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬শ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এ-সংক্রান্ত একটি মামলা আগেই দায়ের করা হয়েছে, তাই আদালতের নির্দেশনা নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুুল আউয়াল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুুল হান্নান, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ বুলবুল, কাটাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রফিক, ইক্ষু খামারের ম্যানেজার আবদুুল মজিদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হোসেনসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

এ ছাড়াও ৫-৬শ আসামির মধ্যে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য, চিনিকল ও ইক্ষু খামারের শ্রমিক-কর্মচারী এবং স্থানীয় ব্যক্তির নামও আছে বলে তিনি জানান।

এর আগে স্বপন মরমুর দায়ের করা মামলায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

স্বপন মরমুর মামলা সম্পর্কে ‘আদিবাসী’ নেতারা বলেছিলেন, এ মামলা তাদের ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে করা হয়নি। পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে মূল ঘটনা আড়াল করে দোষীদের বাঁচাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া গ্রামের বাইরের এক গ্রামের আদিবাসীকে ডেকে নিয়ে তাদের মতো করে এ মামলা দায়ের করিয়েছে।

‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদ’ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ নরেন বলেছিলেন, আগামীতে আমরা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করব। গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজন সাঁওতালের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চারজন সাঁওতাল।

সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। ওই ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে ৬ নভেম্বর রাতেই ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে ৩ থেকে ৪শ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ চারজন সাঁওতালকে গ্রেফতার করলেও পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।

সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের এক হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। সেই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা।

 

 

"