বন্ধু ফিদেলের মৃত্যুতে শোক বাংলাদেশের

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার ভোরে এই বিপ্লবী নেতার মৃত্যু সংবাদ জানার পরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালিদের পক্ষে দাঁড়ানো ফিদেল কাস্ত্রোকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায়’ ভূষিত করে।

শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোষিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রামের কথা বিশ্ববাসী আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ রাষ্ট্রপতি শোক বার্তায় কাস্ত্রোর বিদেহী আত্মার মুক্তি কামনা করেন এবং কিউবার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর। ১৯৭৪ সালে আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সম্মেলনে বৈঠক হয়েছিল তাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার সঙ্গে কিউবার এই নেতার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ফিদেলের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবিসহ অন?্য কমিউনিস্ট দলগুলোও কিউবার বিপ্লবী নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।

বিশ্বনেতাদের শোক : কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটো, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অনেকে শোক জানিয়ে টুইট করেছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটো তার টুইটে লিখেছেন, ‘কিউবার বিপ্লবের নেতা এবং বিংশ শতাব্দীর প্রতীক ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে আমি শোকাহত। ফিদেল কাস্ত্রো মেক্সিকোর বন্ধু ছিলেন এবং শ্রদ্ধা, আলোচনা এবং সংহতির মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কন্নোয়নের উদ্যোগী ছিলেন।’

কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার টুইটে লিখেছেন, ‘বিশ্বের সকল বিপ্লবীদের বলছি, আমাদেরকে তার কাজ এবং তার দেশ, সমাজতন্ত্র, স্বাধীনতার পতাকাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া লিখেছেন, ‘তিনি মহানদের একজন ছিলেন। ফিদেল মারা গেছেন। দীর্ঘজীবী হও কিউবা! দীর্ঘজীবী হও ল্যাটিন আমেরিকা!’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে ক্রাস্ত্রোর মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। কাস্ত্রোকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আইকন এবং একজন বড় বন্ধু হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিও কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট সালভাদর স্যানশেজ সেরেন শোক জানিয়ে বলেছেন, ‘ফিদেল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে’। কাস্ত্রোকে প্রিয় বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি শোকবার্তা পাঠানো হয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ কিউবাকে শক্তিশালী করার জন্য কাস্ত্রোর প্রশংসা করেন। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে কাস্ত্রো স্মরণীয় থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্পেনের সরকারের পক্ষ থেকেও কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এক মহান ব্যক্তি, যিনি দেশের বিবর্তনে নতুন মোড় এনেছিলেন এবং অঞ্চলজুড়ে যার পপ্রচ- প্রভাব ছিল তিনি চলে গেলেন। স্প্যানিশ বাবা-মার সন্তান হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো সবসময় স্পেনের সঙ্গে দৃঢ় সংযোগ রেখেছিলে, এবং রক্ত ও সংস্কৃতির বন্ধনে বাঁধা ছিলেন।’

 

 

"