বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে শুকানো হয় গোবর

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

মাজহারুল মিশু হালুয়াঘাট
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় গাঙ্গিনা নদীর পাড়ঘেষাঁ ব্রিজসংলগ্ন স্থানে ১৯৭১ সালে ঘটেছিল নৃশংস গণহত্যা। এই স্থানে স্বজনদের হারিয়েছেন এ অঞ্চলের অনেক মানুষ। পাকিস্তানের সেনারা এখানে মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত। তাই এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ। এটি এখন অযতেœ নষ্ট হচ্ছে। এই স্মৃতিস্তম্ভের জমিতে এখন শুকানো হয় গোবর। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় সরকার ও এলাকাবাসীকে আন্তরিক হতে হবে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০১১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ¢’ নির্মাণ করে একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করা হলেও দরকারি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তির পোস্টারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। গবাদি পশুর গোবর শুকানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই বধ্যভূমি চত্বর।

এই স্মৃতিস্তম্ভের নামফলকটিও পোস্টারে ঢেকে রয়েছে। বাঙালি জাতির গৌরবমাখা ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেসব বর্বরোচিত নির্যাতন, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের ঘটনা নির্বিঘেœ চালিয়েছিল তা হালুয়াঘাটের মানুষ আজো ভুলতে পারেনি। ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের গাঙ্গিনা নদীর পাড়ঘেষাঁ গাঙ্গিনা ব্রিজসংলগ্ন জায়গায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি বা বাস ও নৌকা থামিয়ে সর্বসাধারণকে নামিয়ে সর্বস্ব লুটসহ নির্বিচারে গণহত্যায় মেতে উঠত পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার আলবদররা। নারী-পুরুষকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত ।

হালুয়াঘাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ এ বিষয়ে বলেন, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৩-৪ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিবর্গের স্মরণে নির্মাণ করা হয়। এখানে সুরু একটি ব্রিজ ছিল। ব্রিজের উভয় পাশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি থামিয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বাংলার মুক্তিকামী জনসাধারণকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিমর্মভাবে, নির্বিচারে হত্যা করেছে এবং নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভটি শহীদের রক্তের ফসল, স্মরণীয় চিহ্ন। এখানে যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিরা পোস্টার লাগিয়েছেন তারা ভালো কাজ করেননি। তিনি এই স্মৃতি ফলক চত্বরে গবাদি পশুর গোবর শুকানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকল্পে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

"