বিস্কুটের বাক্সে ভরে শিশু পাচার হচ্ছে ভারতে

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার ১৪

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিবিসি
ADVERTISEMENT

পশ্চিমবঙ্গে একটি বড়সড় শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়াতে প্রথম এই চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশের সিআইডি। সিআইডি জানিয়েছে, বিস্কুটের বাক্সে ভরে তিনটি সদ্যোজাতকে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল। তখন খবর পেয়ে বাদুড়িয়ার একটি নার্সিং হোমে অভিযান চালিয়ে সিআইডি হাতে নাতে ধরে ফেলে পাচারকারীদের। গ্রেফতার করা হয় নার্সিং হোমের মালিক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ত্রী, আদালত-কর্মীসহ মোট আটজনকে। এ ঘটনায় জড়িত আছেন এমন সন্দেহভাজন একজন চিকিৎসক পলাতক।

ধৃতদের জেরা করে সিআইডির অনুমান গত বছর তিনেকে প্রায় তিরিশটি শিশুকে এভাবেই পাচার করে দেওয়া হয়েছে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। একটি শিশুকে বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই গত দুদিনে দফায় দফায় তল্লাশি চলেছে মধ্য কলকাতা ও দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার দুটি নার্সিং হোমে। গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হয়েছে আরো দুজন। এদের মধ্যে একজন বেহালা অঞ্চলের একটি নার্সিং হোমের কর্ত্রী, অন্যজন মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এলাকার একটি নার্সিং হোমের মালিক। সিআইডি জানিয়েছে, কখনো মৃত সন্তান প্রসব করেছেন মা, এমনটাই জানানো হতো পরিবারকে। তারপরে জীবিত সদ্যজাতের বদলে মৃত শিশু পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হতো।

পরিবারের মুখ বন্ধ রাখতে টাকাও দেওয়া হতো অনেক ক্ষেত্রে, এমনটাই জানিয়েছে সিআইডি।

আবার কখনো গর্ভপাত করাতে আসা নারীদের বুঝিয়ে সন্তান প্রসব করানো হতো, তারপরে টাকার বিনিময়ে সেই সদ্যোজাতকে নার্সিং হোমেই রেখে দেওয়া হতো যতক্ষণ না তাকে দত্তক নেওয়ার মতো পরিবার পাওয়া যাচ্ছে। কন্যাসন্তান আর পুত্রসন্তানের জন্য আলাদা হারে টাকা দেওয়া হতো, যার পরিমাণ এক থেকে তিন লাখ টাকা। দত্তক দেওয়ার কাজটি যাতে ঠিকমতো করা যায়, তার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও খুলেছিল বাদুড়িয়া থেকে ধৃত ব্যক্তিরা।

গোটা পাচারচক্রে আরো অনেকে জড়িত আছে বলেই সিআইডির সন্দেহ। আরো বেশ কয়েকটি নার্সিং হোম, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের ওপরে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

 

 

"