সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না শীতের সবজির

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

রাজধানীর বাজার শীতকালের সবজিতে ভরপুর। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই আসছে সবজি। আগের তুলনায় বেড়েছে সবজির সরবরাহ। প্রতিটি দোকানে শীতকালীন শাকসবজি থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। বাজারে আগের তুলনায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরবরাহ বাড়ার পরও দাম না কমাকে বিক্রেতাদের কারসাজি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি পণ্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। কেবল কাঁচামরিচ ও টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা কমে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায় এবং টমেটো ২০-৪০ টাকা থেকে কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। এ ছাড়া আলু ও পেঁপে বাদে অন্য সব সবজি ও তরকারি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

সরবরাহ থাকার পরও দাম অপরিবর্তিত থাকার ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে কমে না বলেই খুচরাতে আমরা দাম কমাতে পারি না। তার মতে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই দাম কমছে না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম না কমালে আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম কমাব কীভাবে।’

ক্রেতা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় রাজধানীতে শীতকালীন শাকসবজি প্রচুর। গত সপ্তাহের চেয়ে সরবরাহ বেড়েছে অনেক। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, প্রতিটি শাকসবজির দাম কম। অথচ রাজধানীর বাজারে দাম দিগুণ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং করায় দাম কিছুটা কম বন্দর নগরীতে। রাজধানীতে মনিটরিং করছে না সরকার। ফলে এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেট করে দাম কমাচ্ছেন না তারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কালো বেগুন কেজি প্রতি ৬০ টাকা, সাদা বেগন ৪০ টাকা কেজি, প্রতি কেজি শিম (বিচি ছাড়া) ৬০, শিম (বিচিসহ) ১০০, গাজর ৬০-৭০, ঢেঁড়শ ৬০, ঝিঙা ৬০, করলা ৬০, কাঁকরোল ৬০, শসা ৮০, আলু ২৮-৩০ ও পেঁপে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতিটি ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, জালি ৪৫, কচুর লতি ৫০, কচুরমুখি ৪০, পটোল ৫০, বরবটি ৬০, কাঁচাকলা ৩৫-৪০ ও শালগম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবু হালিপ্রতি ২০ টাকা, আঁটি প্রতি পালংশাক ১৫ টাকা, লালশাক ১০, পুঁইশাক ২০ ও লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মশলার বাজার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৮-৪০ টাকা, ভারতীয় হচ্ছে ২৫-২৮ টাকা, দেশি আদা ১৮০ টাকা, বিদেশি ৬০-৬৫ টাকা, দেশি রসুন ১৫৫ টাকা ও ভারতীয় রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৩৮০; পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০, খাসির ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৪৫০ টাকা; কাতলা ৩০০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া প্রকার ভেদে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ প্রতি জোড়া (মাঝারি) এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

 

"