খালেদার মামলায় চিন্তিত বিএনপি

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার
ADVERTISEMENT

খালেদা-তারেককে নিয়ে নতুন ভাবনায় পড়েছে বিএনপি। সাজা পেয়েছেন তারেক রহমান। সাজা হতে পারে খালেদারও। খালেদা-তারেককে বাইরে রেখে বিএনপিকে নির্বাচনের ফাঁদে ফেলতে চায় সরকার। হাইকমান্ডের দুজনকে বাইরে রেখে সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সংস্কারবাদী নেতারা এবং কমিটিতে সন্তেুাষ্ট ননÑএমন শতাধিক নেতাকে নজরে রেখেছে সরকার। খালেদা-তারেককে বাদ দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে দলের দুই কা-ারিকে বাইরে রেখে সরকারের সাজানো বাগানে নির্বাচনে গেলে কতটা সফল হবে তা নিয়ে বিএনপিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। সরকারের এমন কৌশলের বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল নিতেও ব্যর্থ হচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।

দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মনে করছেন, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো তার রাজনৈতিক জীবনের ওপর সরকারি হুমকি। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার কারণে সরকার হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে এ কাজ করছে। সরকার মনে করে চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল পাবে না। তা ছাড়া বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষুব্ধÑএমন নেতাদের দিয়ে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টাও করবে সরকার। বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টায় সরকারের পছন্দের তালিকায় আছেন দলের শতাধিক নেতা। যাদের অধিকাংশ সংস্কারবাদী ছিলেন একটা সময়। এসব সংস্কারবাদী নেতা দলের আরো শতাধিক এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সরকারের সবুজসংকেত পেলে তারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা চলছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে রয়েছে পাঁচ মামলা। যার মধ্যে দুটির বিচারকাজ প্রায় শেষের পথে। ফৌজদারি অভিযোগে নয়টি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই পরিণতির দিকে যাচ্ছে এসব মামলা। দল-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা ধারণা করছেন, দুদকের মামলায় সাজা হতে পারে বেগম জিয়ার। আর সেটি হলে, খালেদা জিয়া অযোগ্য হতে পারেন জাতীয় নির্বাচনে। ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানও করতে পারছেন না নির্বাচন। দলের প্রধান দুই কা-ারিকে বাইরে রেখে সরকার হাঁটছে নির্বাচনের পথে। দলের দুই কা-ারিকে বাইরে রেখে নির্বাচনে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে পারে সরকার। খালেদা-তারেকবিহীন নির্বাচনে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টাও থাকবে সরকারের পক্ষ থেকে। সূত্র জানায়, সরকারের নানা কৌশলী খেলায় পেরে উঠছে না বিএনপি। পাল্টা কৌশল নির্ধারণেও মার খাচ্ছে দলটি। নির্বাচনী রাজনীতি সরগরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিএনপির এসব দুশ্চিন্তাও।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধরী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সরকার তো বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চেষ্টা করেই যাচ্ছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে এটাই বোঝা যায়। সরকার বিএনপিকে ছাড়া আবারো নির্বাচনের পথে হাঁটছে। কারণ তারা জানে মানুষ ভোটের অধিকার পেলে সরকারি দলকে মানুষ ভোট দেবে না। তারা জনগণকে ভয় পায়। তাই সরকার আবারো ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়। তবে এবারের নির্বাচনে আলাদা কিছু ফর্মুলা নিয়ে সরকার হাঁটছে এটা বলাই যায়। যাতে হয়তো নতুন কিছু নাটকও থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি যথেষ্ট সজাগ আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপি। কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দলটি। এ অবস্থায় দলটিকে আরো বেকায়দায় ফেলতে তড়িঘড়ি করে রায় দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে খালেদার মামলায়। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাজা হলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন তিনি। সরকার মনে করছে খালেদা-তারেক নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিএনপিকে ভাঙা সহজ হবে। ভাঙাগড়ার কাজে দলটিকে ব্যস্ত রেখে দ্রুতই নির্বাচনে যাবে সরকার। সরকারের এমন মনোভাবের কথা দলটির চেয়ারপারসনসহ অনেকেই জানেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই দলটির। তবে সরকার যাতে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা না করতে পারে সেজন্য দলটির সংস্কারপন্থি নেতাদের নজরে রাখছে বিএনপি। এরই মধ্যে বিএনপি মহাসচিব সংস্কারবাদী নেতাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হতে বলেছেন। এমন খবরে তারা আপাতত খুশি হলেও কমিটিতে পদ না পাওয়ায় মহাসচিব বা খালেদার কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না এ নেতারা। আবার বিদ্রোহী এ অংশটির সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে জানা যায়।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সরকার চায় বিএনপি নির্বাচনে না আসুক। বিএনপিকে নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতেই সরকারের যত চেষ্টা চলছে। এতে ক্ষুব্ধ ৫০-৬০ জন নেতাকে সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্ক ওভার দিয়ে এমপি বানানোর চেষ্টা করবে সরকার। আর জাতীয় পার্টিসহ বাগানো নেতাদের দিয়ে শক্ত বিরোধী দল গড়ার চিন্তা হয়তো করা হচ্ছে। সরকারের এমন ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে, বিএনপি ঘরানার লেখক ও সাংবাদিক কাজী সিরাজ মনে করেন, এমন চিন্তা সরকারের আপাতত আছে বলে আমার মনে হয় না। তিনি বলেন, খালেদা বা তারেক নির্বাচন না করতে পারলেও সামনের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মতো ভুল দলটি আর করবে বলে মনে হয় না। তবে এটা ঠিক, সরকার নানাভাবে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইবে। এর বাইরে বিএনপির একটি অংশকে সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও সরকার করতে পারে। তবে সব মিলিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ কিছুটা হয়তো বোঝা যাবে। সরকারের সব চেষ্টা সফল হবেÑএমনটাও এখন বলা যাচ্ছে না।

 

 

"