চট্টগ্রামে নাশকতা ও আগুন সন্ত্রাস

যে কারণে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ADVERTISEMENT

গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন সন্ত্রাস ও পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গত ৩১ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের ২৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং আরো ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এই মামলা করেন থানার এসআই মো. মোস্তাক চৌধুরী। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫ আসামি গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই মামলাকে ঘিরে নীরব চাঁদাবাজি চলছে বোয়ালখালীতে। গ্রেফতার এড়াতে ও মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্থতায় পুলিশের সঙ্গে রফাদফা করছে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা। গ্রেফতার এড়ানো ও মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দিতে জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা করে দিচ্ছেন মামলার আসামিরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি হয়েও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক চৌধুরী, থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহসিন খোকন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন নান্নু, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বাহাদুর শাহসহ অনেক নেতাকর্মী পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আবুর সঙ্গে প্রকাশ্যে দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। পৌর কার্যালয়ের বিভিন্ন বিচার সালিশ অনুষ্ঠানেও কেউ কেউ প্রতিনিধিত্ব করছেন। কেউ কেউ নিয়মিত উপজেলা সদরে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ব্যবসা করছেন। পৌর সদরের বড় বাড়ির মাজারের আগামী ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক ওরশের আয়োজক কমিটির হয়ে কাজ করছেন ইসহাক চৌধুরী, আলী আকবর ও বাহাদুর শাহ।

মামলার এজাহার দেখে জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ জুলাই সকালে বোয়ালখালী সদরের সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থ পাচার মামলায় আদালতের দেওয়া রায়ের সাজার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ফুলতল-কানুনগোপাড়া সড়কের কলেজের সামনে রাস্তায় যানবাহন ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। এরপর ঘটনার দিন বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা (নম্বর ৩৩ (৭) ১৬) করেন বোয়ালখালী থানার এসআই মো. মোস্তাক চৌধুরী।

মামলায় স্থানীয় মহসিন খোকন, মোহাম্মদ রাশেদ, সেকান্দর প্রকাশ চেরাগ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন আরিফ, শাহেদ হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ শাহিন, এস এম মোজাম্মেল হক বাবলু, আমির হামজা, গোলাম হোসেন নান্নু, এনামুল হক সজিব, মোহাম্মদ সোহাগ, বাহাদুর শাহ, মোহাম্মদ ইউসুফ, মো. ইসহাক চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী, আবদুল খালেক, হারুন মেম্বার, মোহাম্মদ আরিফ, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাদ্দাম, আলী আকবর, মোহাম্মদ তৈয়ুব, মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ মানিকসহ ২৫ জনের নামের উল্লেখ করে আরো ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ শিবির নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন আরিফ, বিএনপিকর্মী কামাল উদ্দিন, মো. বখতিয়ার উদ্দিন, আমির হামজা ও মো. রবিউল ইসলাম ওরফে সাহেদকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার এড়াতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের রফাদফা হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এস এম সেলিম বলেন, নাশকতার মামলা নিয়ে চাঁদাবাজির সুযোগ আছে এটা ঠিক। কোনো ঘটনা হলে পুলিশ এ নিয়ে সহযোগিতা চেয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো সময় যোগাযোগ করেনি। নাশকতার মামলা নিয়ে দলের কেউ বাণিজ্য করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভুঁইয়া বলেন, আসামি গ্রেফতার ও অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। মামলার আসামিকে গ্রেফতারের জন্য সব সময় পুলিশের চেষ্টা থাকে। কিন্তু আসামি নানা কৌশল অবলম্বন করায় বা আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেফতার করা হয় না।

 

 

"