দরজা খুলল সৌদি শ্রমবাজারের

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

বাংলাদেশের শ্রম রফতানির বৃহৎ বাজার সৌদি আরবের দরজা প্রায় ৬ বছর বন্ধ ছিল। বিভিন্ন কারণে দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখে। এতে দেশের শ্রমবাজারে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরা সেখানে কাজের জন্য ভিসার ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে রাখলেও দেশটিতে প্রবেশে ছিল বাধা। অবশেষে সেই বাধা তুলে নিল দেশটির সরকার। শ্রম খাতে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি সরকার।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। এ খবরে সন্তোষ প্রকাশ করে রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা কাজ নিয়ে সৌদি আরবে আসতে চায়, তাদের জন্য এটি দারুণ সুখবর। তিনি বলেন, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরের সময় বাদশা সালমানের সঙ্গে তার বৈঠকেই জনশক্তি রফতানির বাধা অপসারণের পথ তৈরি হয়।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন কৃষি ও আবাসন খাতের দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিকদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের মতো পেশাজীবীদেরও সৌদি আরবে কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি সফরের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ পাঁচ লাখ জনশক্তি নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে রিয়াদ। আরব গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন, যার মধ্যে ৬০ হাজার নারী কাজ করছেন গৃহকর্মী হিসেবে। এ হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার।

বন্ধ সৌদি শ্রমবাজার খোলায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই সৌদি আরবে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির দরজা খুলেছে। গত ছয় বছর শুধু গৃহকর্মী ছাড়া অন্য কোনো পেশার জনবল নেয়নি সৌদি আরব। কিন্তু সব পেশার জনশক্তি রফতানি করতে বাংলাদেশ এই দীর্ঘ সময় থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। অবশেষে গত বুধবার দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে সব পেশার জনবল নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

জনশক্তি রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বায়রার সভাপতি বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট খবর। এতদিন এ বিষয়ে প্রচার প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছিল যে, বর্তমান সরকারের সময় সৌদি শ্রমবাজার খুলবে না। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের মিথ্যা অপবাদ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারগুলোতে চালানো হয়েছে বিরোধী একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে। তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গত জুন মাসের সফরের সময় সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ লোক নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার সৌদি সরকার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালো।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক জঙ্গিবিরোধী জোটে আছে। এছাড়া টুইন টাওয়ার হামলায় সৌদি আরবের দায় আছে মর্মে দেশটিকে কালোতালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছিল জাতিসংঘে। এই ইস্যুতেও বাংলাদেশ সৌদির পক্ষে কাজ করে। তাদের কালোতালিকাভুক্ত করতে বিরোধিতা করে। এসব কারণে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ভালো হয়।

"