এক জোড়া হনুমান

এস আর সানু খান

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

হইহুল্লো আর চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙল কাবুলের। ক্লাস থ্রিতে পড়লেও রাত জেগে পড়বার অভ্যাস তার খুব। গতকালও অনেক রাত পর্যন্ত দাদার সঙ্গে গল্প করে তবে ঘুমিয়েছে কাবুল। চেঁচামেচি শুনে চোখ মুছতে মুছতে ঘুম থেকে ওঠে দরজা খুলল কাবুল। বাইরে এসে দেখল বাড়ির সামনের রাস্তায় অনেক লোকের জড় হয়েছে। সবাই ওপরের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা দেখছে। রাস্তার পাশেই বড় কয়েকটা মেহগনি গাছ রয়েছে। কাবুল এগিয়ে গেল রাস্তার দিকে। ওখানে কাবুল তার বন্ধু রতন, সুমন, ইমরান, নাহিদ আর ছোটন কেও দেখতে পেল। কাবুলকে দেখে ওরা এগিয়ে এল। কিছু জানতে চাওয়ার আগেই ওরা কাবুলকে জানাল ঘটনাটা আসলে কি হয়েছে। কোথা থেকে যেন দ্টুা হনুমান এসেছে। তাই দেখতেই এত মানুষের ভিড়। কাবুল ওদের সাথে দৌড়ে দিয়ে গাছের নিচে দাঁড়াল। ওপর দিকে তাকিয়ে দেখলো গাছের মগ ডালে পাশা পাশি দুইটা হনুমান বসে আছে। ইয়া বড় লম্বা দুটা লেজ ঝুলছে তাদের। হনুমান দুইটা একবার নিচের দিকে তাকাচ্ছে আবার উপরের দিকে তাকাচ্ছে। গাছের নিজে ততক্ষণে অনেক লোক জমে গেছে। এপাড়া ওপাড়ার সকল ছেলে মেয়েরা এসে জড় হয়েছে ওখানে। হনুমাণ দুইটা একজন আরেকজনের শরীর থেকে কি যেন খুটছে আর আঙ্গুল দিয়ে চেপে মারছে। কাবুল শুনল, সবাই বলছে ওরা নাকি উকুন মারছে।

কয়েকজন বয়স্ক মনিুষ এবার জড় হল গাছের নিচে। কেউ কেউ বলতে লাগলেন, হনুমাণ নাকি আগে মানুষ ছিলো। লঙ্কার অগ্নী কান্ডে মুখ পুড়ে এমন হাল হয়েছে। দেখছো না তাকনো তুকোনো সব মানুষের মতন।

কেউবা বলছে কলা খেতে দিলো ওরা নাকি খুব খুশী হয়।সবার চোখ এখন গাছের উপরের দিকে। কাবুলের খুব মজা লাগছিল। কারণ গ্রামের প্রায় সবাই এখানে হাজির হয়েছে। কেউ বলছে কোন চিড়িয়াখানা থেকে মনে হয় ছুটে এসেছে। কেউ আবার বলছে আরে না ,বনের থেকেই এসেছে।অনেকে আবার বলতে লাগল,মনে হয় খাবারের খোঁজে ওরা লোকালয়ে এসে পড়েছে।

কাবুল দেখল, কিছু সময়ের মধ্যে অনেকে পাকা কলা, কেউ কাঁচা কলা, কেউ আলু, কেউবা টমেটো নিয়ে হাজির হলো। হারাধন কাকার বউ হনুমান দেখেই উলু উলু দিতে আরম্ভ করলেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একটা প্লেট ভর্তি পায়েস আর কলা।হাত উচু করে ঠাকুর ঠাকুর বলে ডাকতে লাগলেন। কলার কথা শুনেই একটু কান খাড়া করল হনুমাণ দুটি।কয়েকবার ঠাকুর কলা খাও ঠাকুর,এমন কথা শুনে হনুমাণ দুইটা কয়েক ডাল নিচে নেমে এল। হারাধন কাকার বউ হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিল প্লেটটা । একটা হনুমানও একটু এগিয়ে এসে প্লেট থেকে একটা কলা নিয়ে উপর দিকে ছুড়ে দিতেই ওপরে থাকা হনুমানটা কলাটা ঠিক মানুষের ক্যাচ ধরর। তারপর মানুষের মতোই ছুলে খেতে শুরু করল। নিচের দিকে নামা হনুমানটাও একটা কলা নিয়ে একটু ওপরের দিকে গিয়ে খেতে আরম্ভ করলেন। কলা খাওয়া শেষ হতেই আবার একটু নিচে নেমে এসে হারাধন কাকার বউয়ের হাত থেকে প্লেটটা নিয়ে দুই লাফে ওপরে উঠে দুজনে মিলি মিশে পায়েস খেতে লাগলেন।

নিচে থাকা কাবুলের মতো সব ছেলে মেয়েরা হনুমানের এসব কার্যকলাপ দেখে আনন্দে আতœাহারা হয়ে চিৎকার করতে লাগল। খাওয়া শেষ করে প্লেট চেটে একদম পরিষ্কার করে আবার এসে প্লেটটা হাতে হাতে দিয়ে গেলেন একটা হনুমান।ততক্ষনে সবাই অনেক অনেক জিনিস এনে দিতে লাগলেন। কেউ কেউ হনুমানের সাথে দুষ্টামিও লাগল। একবার হাত বাড়িয়ে দিতে গিয়ে আবার দিচ্ছে না। বোকা হয়ে কাজুবাজু ভাব করে হনুমাণটা আবার হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। মানুষের ভালবাসা পশুপাখিরা খুব ভালভাবে বুঝতে পারে। এ কারণে খুব অল্প সময়েই তারা সাড়া দেয়। কিন্তু দুষ্ট লোকের অভাব নাই। হঠাৎ একজন এসেই বলতে শুরু করল এই তীর ধনুকটা দেতো কেউ।

এই কথা শুনেই হনুমাণ বোধবুদ্ধি হারিয়ে লাফ মেরে গাছ থেকে নেমে দৌড় শুরু করল। পিছন পিছন একদল ছেলে মেয়েও দৌড়াতে লাগল। একটু এগিয়ে গিয়ে একটা গাছের শিকড়ের ওপর বসে পড়লেন হনুমান দুইটা। ছেলে মেয়েরাও পিছন লাগতে শুরু করল। ট্যাপার মেয়ে সুলতা একটা কলা নিয়ে এগিয়ে গেল হনুমানকে দিতে।এমন সময় কেউ একজন ধনুক শব্দ উচ্চরণ করতেই রাগে দাঁত শিটকিয়ে ঠাটিয়ে একটি চড় বসিয়ে দিলেন সুলতার বাম গালে। ঠাস করে শব্দ হল। সুলতা মাটিতে পড়ে কান্না শুরু কলল। সুলতার মুুখে হনুমানের হাতের পাঁচটা আঙ্গুল বসে গেল।সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো সুলতাকে নিয়ে। পাশের একটা বাড়ি নিয়ে সুলতার মাথায় পানি ঢালতে শুরু করল গ্রামের নারীরা। সুলতার বাড়ি খবর পৌছে গেল।ওরা বাবা মাও ছুটে এলো। হনুমানের কথা সবার মন থেকে সরে গেল। তারপর হনুমান দুইটি যে কোথায় গেল সেটা আর জানা গেল না।

"